কাবুল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এক দিন আগে, ২৯ আগস্ট ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে একজন ত্রাণ সহায়তাকর্মী ও তার পরিবারের ৯ সদস্য প্রাণ হারায়। এর মধ্যে সাত জনই শিশু। সবচেয়ে ছোট শিশুর নাম সুমাইয়া। তার বয়স মাত্র দুই বছর
g রয়টার্স
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ড্রোন হামলায় শিশুসহ নিরীহ ১০ আফগান নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার তাদের এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। তবে ক্ষতিপূরণ নেওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন নিহতদের স্বজনেরা।
কাবুল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এক দিন আগে, ২৯ আগস্ট ঐ ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে একজন ত্রাণ সহায়তাকর্মী ও তার পরিবারের ৯ সদস্য প্রাণ হারায়। এর মধ্যে সাত জনই শিশু। সবচেয়ে ছোট শিশুর নাম সুমাইয়া। তার বয়স মাত্র দুই বছর। মার্কির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি কলিন কাহল ও আফগানিস্তানে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান স্টিভেন কোওনের এক বৈঠকের পর। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সেক্রেটারি লয়েড অস্টিন এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন তাদের কাছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করার জন্য কাজ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে। তবে নিহত এক জনের স্বজন বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, এটি যথেষ্ট নয়। তাদের অবশ্যই এখানে আসতে হবে এবং মুখোমুখি ক্ষমা চাইতে হবে। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল গত ১৫ আগস্ট তালেবান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর দেশটি থেকে লোকজন সরানো শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা। সবশেষ ৩১ আগস্ট আফগানিস্তানের মাটি ছাড়েন মার্কিন সেনারা। এর মাঝে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে কাবুলের হামিদ কারজাই বিমানবন্দরে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে ১৭৫ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনাও ছিলেন। এ ঘটনার পরপরই কাবুলের দুটি স্থানে ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
দ্বিতীয় দফায় গত ২৯ আগস্ট কাবুল বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, সন্দেহভাজন আইএস সদস্যের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং ঐ ব্যক্তি বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে বিমানবন্দরে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। পরে ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের তদন্তের রিপোর্টে গাড়িচালকের পরিচয় জানা যায়। তার নাম জেমারি আহমাদি। ৪৩ বছর বয়সি এই প্রকৌশলী আফগানিস্তানে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সংস্থা নিউট্রিশন অ্যান্ড এডুকেশন ইন্টারন্যাশনালে কাজ করতেন। তার স্বজনদের দাবি, আহমাদি ও তার পরিবারের আরেক সদস্য মার্কিন সেনাদের কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করছিলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসেবে যাওয়ার জন্য আবেদনও করেছিলেন। আহমাদির পরিবার ও সহকর্মীরা আরো জানান, যে গাড়িটি আহমাদি চালাতেন, সেটি নিউট্রিশন অ্যান্ড এডুকেশন ইন্টারন্যাশনালের। ২৯ আগস্ট তিনি বিভিন্ন স্থানে যান তার কাজের জন্য। এর মধ্যে ছিল তার বসের ল্যাপটপ নেওয়া এবং সহকর্মীদের পৌঁছে দেওয়া। মার্কিন নজরদারি ড্রোন যে ভারী বস্তু তিনজনকে গাড়িতে ভর্তি করতে দেখেছিল, সেগুলো মূলত পানির কনটেইনার ছিল। কাবুল তালেবানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বাড়িতে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় অফিস থেকে পানি নিচ্ছিলেন আহমাদি।
২৯ আগস্ট আহমাদি যখন বিমানবন্দরের কাছে তার বাসায় ফিরছিলেন, তখন মার্কিন ড্রোন থেকে তার গাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। মার্কিন ড্রোন অপারেটর ঐ সময় গাড়ির কাছে কেবল একজনকে দেখতে পান। কিন্তু নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আহমাদির স্বজনদের ভাষ্যে, আহমাদি আঙিনায় পৌঁছালে তার ও ভাইয়ের ছেলেরা বের হয়ে আসে এবং গাড়িতে চড়ে বসে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের তদন্তেও একই তথ্য উঠে আসে। পরে হামলার ঘটনার কথা স্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্র।
কাবুলে গত ২৯ আগস্ট ড্রোন হামলায় শিশুসহ ১০ জন নিহত হয়। (্ইনসেটে নিহতদের স্বজনদের আহাজারি) -দ্য জাপান টাইমস