ওষুধ রপ্তানি করলে ১০ বছরের ট্যাক্স হলিডে

দেশীয় ওষুধ শিল্পের প্রসারে সুখবর দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর। স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল উত্পাদন করে ওষুধ রপ্তানি করলে এমন প্রতিষ্ঠানকে আরো ১০ বছর কর অবকাশ সুবিধা বা ট্যাক্স হলিডে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে নিবন্ধিত দেশীয় ও জয়েন্ট ভেঞ্চারভিত্তিক অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনক্রিডেন্স (এপিআই) মলিকিউল ও ল্যাবরেটরি বিকারক উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে আয়কর থেকে শর্ত সাপেক্ষে অব্যাহতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য উত্পাদনের কাঁচামাল হচ্ছে এপিআই, যা প্রায় সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। এপিআই খাতে টেকসই শিল্পায়নের মাধ্যমে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং দেশিবিদেশি বিনিয়োগ উত্সাহিত করার লক্ষ্যে এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে। সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। প্রজ্ঞাপনে এ সুবিধা ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়, যা ২০৩২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত (দেশীয় ও জয়েন্ট ভেঞ্চার) অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনক্রিডেন্স (এপিআই) মলিকিউল ও ল্যাবরেটরি বিকারক উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে আয়কর থেকে শর্ত সাপেক্ষে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য শর্তগুলো হলো—২০১৬ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা পেতে এপিআই মলিকিউল ও ল্যাবরেটরি বিকারক উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে তার নিজস্ব কারখানায় স্থানীয়ভাবে এপিআই মলিকিউল ও ল্যাবরেটরি বিকারক উত্পাদন করতে হবে।

২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সম্পূর্ণ করমুক্ত সুবিধা পেতে এপিআই মলিকিউল ও ল্যাবরেটরি বিকারক উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রতি বছর অন্তত পাঁচটি নতুন এপিআই ও ল্যাবরেটরি বিকারক উত্পাদন করতে হবে। উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রতি বছর বিধি অনুসারে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। মানহীন ওষুধ উপকরণ উত্পাদন করলে জরিমানা আরোপিত হবে এবং ঐ বছরের কর সুবিধা বাতিল করা হবে ইত্যাদি।

২০১৮ সালে বাংলাদেশে ওষুধ খাতে বিনিয়োগকারীদের সুবিধা দিতে জাতীয় এপিআই (কার্যকর ওষুধ উপকরণ) ও ল্যাবরেটরি বিকারক উত্পাদন-রপ্তানি নীতি করা হয়। ঐ নীতিমালায় বাংলাদেশে নিবন্ধিত সব এপিআই ও ল্যাবরেটরি বিকারক উত্পাদনকারীদের জন্য কর অবকাশ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।

বাংলাদেশে উত্পাদিত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ মিটিয়ে থাকে। বাংলাদেশ বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। এপিআই না থাকায় ওষুধ উত্পাদনে ব্যবহূত এপিআইয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানি করতে হয়। আমদানিনির্ভর কাঁচামালের ওপর ওষুধশিল্প টেকসই হয় না, এমন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দেশীয়ভাবে ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল উত্পাদনে কর অবকাশসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার।