আগুনে দগ্ধ হয়েছেন দুই জন
g চট্টগ্রাম অফিস
নগরীর বালুচড়া এলাকায় বিস্ফোরণে দেওয়াল ধসে পড়ে ফারুক (২৪) নামে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো তিন জন। আহতদের মধ্যে দগ্ধ দুই জনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রোববার কাসেম কলোনিতে এই ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ফোরকান (৫৫), কালাম (৪৫) ও দেলোয়ার (৩৪)।
নিহত ফারুক কাসেম কলোনির ভাড়াটিয়া বদিউল আলমের ছেলে। আগুনে দগ্ধ দুই জন নির্মাণ শ্রমিক। দেওয়াল ধসে পড়ে আহত দেলোয়ার পেশায় চা-দোকানি। ফায়ার সার্ভিস বায়েজিদ স্টেশনের সিনিয়র অফিসার কবির হোসেন জানান, কলোনির তিন তলা ভবনের নিচতলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর কক্ষে আগুন লেগে যায়। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা তিন জনকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিত্সক ফারুককে মৃত ঘোষণা করে।
বায়েজিদ থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, কাসেম কলোনির নিচতলায় একটি কক্ষে ফোরকান ও কালাম ভাড়ায় থাকেন। সেই কক্ষে বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে দুই জনই দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণের সময় কক্ষের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন ফারুক। এতে বিস্ফোরণে দেওয়াল ধসে পড়ে তিনি মারা যান। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করে কারণ চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন।
তিন তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আছে মসজিদ। তৃতীয় তলায় আছে একটি মাদ্রাসা। নিচতলার ১৪টি কক্ষে লোকজন ভাড়ায় থাকেন। ভবনের মালিক মৃত হাজী আবুল কাসেমের ছেলে খুবচুর আলম বলেন, ভবনের নিচ তলায় ১৪টি কক্ষে ব্যাচেলর লোকজন ভাড়ায় থাকেন। ফোরকান ও কালাম যে কক্ষে থাকেন সেখানে তারা পাঁচ জন থাকেন। ঘটনার সময় শুধু ফোরকান ও কালাম বাসায় ছিলেন। বিস্ফোরিত কক্ষের পাশের রুমে থাকেন দেলোয়ার। দেওয়াল ধসে পড়ে তিনিও আহত হন।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস) রওনক উল ইসলাম বলেন, ভবনে আমাদের সরবরাহ লাইন আছে। যে কক্ষে বিস্ফোরণ হয়েছে সেই কক্ষে চুলা আছে ও পাইপলাইনও আছে। ভবনে ৩৩টি চুলা রয়েছে। গ্যাসলাইনে কোনো ত্রুটি আছে কি না দেখছি। কিন্তু গ্যাস নিঃসরণের কোনো গন্ধ পাচ্ছি না। গ্যাসের চুলা চালু থাকলে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হতে পারে।
সিএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) মোখলেছুর রহমান বলেন, বিস্ফোণের পর আগুন ধরে গিয়েছিল। কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে তা বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ফায়ার সার্ভিস খতিয়ে দেখছে। আমরা খালি চোখে এখানে কোনো দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দেখিনি।’