সীতাকুণ্ডে শক্তিশালী বোমা উদ্ধার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মধ্যম মহাদেবপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি আশ্রমের পাশে থেকে শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে আশ্রম সংলগ্ন তাঁতীবাড়ির সামনের রাস্তায় বোমাটি দেখে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. মসিউদ্দৌলা রেজার নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্ফোরণের মাধ্যমে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। 

আরো পড়ুন: পয়লা ফাল্গুনে হোটেল থেকে ২৯ তরুণ-তরুণী আটক

পুলিশ জানায়, বিভিন্ন ইলেকট্রিক ডিভাইসের সাহায্যে বোমাটি বানানো হয়েছিল। তা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। 

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. মশিহুদদৌলা রেজা ইত্তেফাককে বলেন, আগামী ৪ মার্চ থেকে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে হিন্দু সম্প্রদায়ের পবিত্র শিব চতুর্দশী পূজা ও মাসব্যাপী মেলা শুরু হবে। ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবকে কেন্দ্র প্রতিবছর সীতাকুণ্ডে বিপুল তীর্থযাত্রীর সমাগম ঘটে। মেলা সম্পর্কে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতেই স্বাধীনতা বিরোধী কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী বোমা ফাটানোর পাঁয়তারা করেছিল। 

মধ্যম মহাদেবপুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হারাধন চৌধুরী বলেন, সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী মেলায় প্রতিবছর ভারত, নেপাল, শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তীর্থযাত্রী আসেন। মেলাকে কেন্দ্র করে উগ্রবাদীরা আতঙ্ক সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিল। এ কারণে তারা নির্জন স্থানে বোমা রেখে গিয়েছিল যাতে সময়মত ফাটানো যায়। 

সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বোমা পেতে রাখার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। 

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের মার্চে সীতাকুণ্ড উপজেলার নামারবাজার পশ্চিম আমিরাবাদ ও চৌধুরীপাড়া নামক স্থানে দুটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। এর মধ্যে চৌধুরীপাড়ার ছায়ানীড় ভবনে পুলিশ অভিযান চালাতে গেলে জঙ্গিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও আত্মঘাতী বোমায় চার সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়।  

ইত্তেফাক/জেডএইচ