বাঘা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির ৩ প্রার্থী

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে চেয়ারম্যানসহ দুইটি ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিন নেতা প্রার্থী হয়েছেন। হলফ নামায় নিজেদের স্বতন্ত্র হিসাবে পরিচয়  জাহির করলেও বাস্তব অর্থে তারা পদধারী নেতা। এর মধ্যে একজন বর্তমান নারী ভাইস চেয়ারম্যান আছেন বলে জানা গেছে।
 
উপজেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানান, বর্তমান সরকার আমলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবেনা এমন নির্দেশনা ছিলো দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার। কিন্তু এ নির্দেশ কোনো কোনো জায়গায় মানা হচ্ছে না। নিজেদের পরিচয় জাহির করাসহ টাকার গরমে অনেকেই  স্বতন্ত্র হিসেবে উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন উত্তোলন করেছেন।
 
বাঘায় চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র  প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবদুল্লাহ আলম মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে উপজেলা বিএনপির আরেক যুগ্ম আহবায়ক মখলেচুর রহমান মকুল এবং ভাইস চেয়ারম্যান (নারী) পদে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও বর্তমান নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা দিল আফরোজ রুমি।

নির্বাচন প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ আলম মামুন বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ গ্রহণ করছি। ২০০৯ সালের নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে ছিলাম। ২০১৪ সালে দল আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দিলেও কয়েকদিন পর আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। সেই বার রাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও শেষ পর্যন্ত জিততে পারিনি।
  
ভাইসে চেয়ারম্যান প্রার্থী মখলেচুর রহমান মকুল বলেন, দল থেকে নয়, নিজের ইচ্ছা ও জনগণের ভালবাসায় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছি। আশা করছি নির্বাচিত হবো। 

নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারহানা দিল আফরোজ রুমি বলেন, আমি বর্তমানে উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে আছি। বিএনপি এবারের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছে না জানি। কিন্তু জনগণের অনুরোধে আবারও ভোট করতে বাধ্য হচ্ছি।

আরো পড়ুন: ৯ বছর পর মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদল, স্বাগত জানায় ছাত্রলীগ

 
এ ব্যাপারে বাঘা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, দলের নির্দেশনা অমান্য করে যারা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছেন তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
 
বাঘা উপজেলায় এবার চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জনসহ মোট ১৩ জন প্রার্থীতার আবেদন করেন। পরে যাচাই বাছাই শেষে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুইজনের প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণা করেন জেলা রির্টানিং অফিসার। 

ইত্তেফাক/অনি