সাভারের আশুলিয়ায় টাকা চুরির ঘটনা দেখে ফেলায় এবং চুরির বিষয়টি বলে দেয়ায় ১২ বছরের এক শিশুকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রবিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১২ টার দিকে বাইপাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার (১৮ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামিউল ইসলাম।
নিহত শিশুটির নাম মো. ফেরদৌস (১২)। সে শেরপুর জেলার সদর থানার মুন্সিপাড়া গ্রামের বাসচালক রইচ উদ্দিনের ছেলে। ফেরদৌস আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ বালুর মাঠ এলাকায় পরিবারের সাথে ভাড়া বাসায় থেকে আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনে হেলপার হিসেবে কাজ করতো। এ ঘটনায় মো. শাহ পরান হৃদয় নামে ক্ল্যাসিক পরিবহনের একজন স্টাফকে আটক করেছে পুলিশ। তবে মো. পারভেজ নামে অপর এক হেলপার পলাতক রয়েছে।
নিহতের বড় বোন রুবিনা বেগম বলেন, আমার বাবা আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনের চালক। ছোট ভাই ফেরদৌস একটু চঞ্চল প্রকৃতির হওয়ায় তিন দিন আগে তাকে আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনে কাজে পাঠানো হয়। রবিবার সকালে বাইপাইল এলাকার রাস্তা থেকে আমার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাসের হেলপার ও কন্ডাক্টর মিলে আমার ভাইকে হত্যার পর লাশ সড়কে ফেলে রেখে গিয়ে তারাই আবার পুলিশকে খবর দিয়েছিল।
পুলিশ জানায়, রাত ১২ টার দিকে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে বাস নিয়ে বাইপাইল পৌঁছায় কন্ডাক্টর হৃদয়, হেলপার পারভেজ ও ফেরদৌস। পরে গাড়ির মধ্যে কন্ডাক্টর হৃদয় ও হেলপার পারভেজ ঘুমিয়ে পড়ে। এসময় শিশু ফেরদৌসও গাড়িতেই ছিলো। ঘুম ভাঙলে হৃদয় তার পকেট থেকে ৫০০ টাকা খোয়া গিয়েছে বলে জানায়। এসময় শিশু ফেরদৌস জানায় পারভেজ ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হৃদয় তার পকেট থেকে ৫০০ টাকা চুরি করেছে। এতে পারভেজ ও হৃদয়ের মধ্যে টাকার বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে টাকা চুরির বিষয়টি বলে দেয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে পারভেজ শিশু ফেরদৌসকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে পারভেজ ও হৃদয় মিলেই নিহত ফেরদৌসের লাশ সড়কে ফেলে রেখে পুলিশকে দুর্ঘটনার খবর দেয়।
খবর পেয়ে সাভার হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও মরদেহে দুর্ঘটনার কোন চিহ্ন না পাওয়ায় বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করে। পরে ভোর রাতে আশুলিয়া থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এসময় হৃদয়কে আটক করা গেলেও পারভেজ পলিয়ে যায়।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামিউল ইসলাম বলেন, রাতেই এঘটনায় আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনের কন্ডাক্টর হৃদয়কে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে ৫০০ টাকা চুরির ঘটনা দেখে ফেলায় এবং তা বলে দেয়ায় ফেরদৌসকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের ও অভিযুক্ত পারভেজকে আটকের চেষ্টা চলছে।
ইত্তেফাক/এমএএম