বিশ্বকাপের স্বপ্নযাত্রা শুরু হলো দুঃস্বপ্ন দিয়ে। বিষন্ন, বিমর্ষ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। রবিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনের টেবিলে বসে মাথায় দুই হাতে তুলে ফেলেছিলেন। অধিনায়কের হতাশাচ্ছন্ন চেহারায় ফুটে উঠছিল স্কটল্যান্ডের কাছে হার কতটা পুড়িয়েছে বাংলাদেশ দলকে। ৬ রানের হারে সুপার-১২ পর্বে খেলার সমীকরণটা কঠিন হয়ে গেলো টাইগারদের জন্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের আহাজারি চলছে, তীব্র সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছেন ক্রিকেটাররা।
হারের পর ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স কাটা ছেঁড়া হচ্ছে অনেক। বিশেষ করে ব্যাটিংটাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মিডল অর্ডারে তিন সিনিয়রের ব্যাটিংই মূলত কাঠগড়ায়। সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং সময়ের দাবি মেটাতে পারেনি। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত রান তুলতে পারেননি তারা।
রান তাড়া করেছিল বাংলাদেশ। ইনিংসে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞরাই খেলেছেন বেশি বল। সিনিয়র ত্রয়ী মিলে ৮৬ বল তথা প্রায় ১৫ ওভার ব্যাট করেছেন। রান তুলেছেন ৮১। বাকি সবাই ৩৪ বল খেলে তুলেছিলেন ৪৮ রান।
দলীয় ১৮ রানে সৌম্য, লিটনের বিদায়ের পর সাকিব-মুশফিক ৫১ রানের জুটি গড়েন। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে তাদের ব্যাটেই রান তাড়ার স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। সেট হতে দু'জনই সময় নিয়েছেন। কিন্তু যখন দলকে এগিয়ে নেয়ার সময় আসল, তখনই হতাশায় পোড়ালেন তারা।
আইপিএলেও ফর্মে ছিলেন না সাকিব। জাতীয় দলে এসে তিনে নেমেছেন। তার যন্ত্রণাক্লিষ্ট ২০ বলে ২৮ রানের ইনিংসটা শেষ হয়েছে গ্রিভসের বলে। ভরসার মূলে থাকা মুশফিক আউট হয়েছেন দৃষ্টিকটুভাবে। গ্রিভসের বলে স্কুপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে অপরিণত মস্তিষ্কের পরিচয়ই দিয়েছেন তিনি। তখনই কার্যত পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৩৬ বলে ৩৮ রান করেন তিনি।
রানের চাপ চরমে উঠছিল, উইকেটে থেকেও দলকে টেনে নিতে ব্যর্থ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ২২ বলে ২৩ রান করেছিলেন তিনি। ম্যাচ শেষে নিজের ব্যাটিং ব্যর্থতাও মেনে বলেছেন, ‘হ্যাঁ, ওটা আমার ব্যর্থতা ছিল।’
দ্রুত রান তুলতে না পারার বিষয়েও ছিল অকপট স্বীকারোক্তি। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমরা তো ইচ্ছা করে স্লো খেলিনি। আমরা চেষ্টা করেছি। ওদের বোলারদের কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা ভালো বোলিং করেছে।’
ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণেই অনাকাঙ্খিত হার হজম করতে হয়েছে। যারপরনাই হতাশ মাহমুদউল্লাহও দুষছেন ব্যাটসম্যানদের। আর সবার মতো অধিনায়কের চোখেও ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল মুশফিকের আউট। তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় মুশফিকের উইকেটই টার্নিং পয়েন্ট। কারণ, মুশফিক দারুণ খেলছিল। সেট ব্যাটসম্যানকে উইকেটে থাকতে হয়। আমার মনে হয় ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমরা নিজেদের হতাশ করেছি। এটা বড় চিন্তার কারণ।’
ইত্তেফাক/টিএ