বিবিসি ও রয়টার্স
উত্তর কোরিয়া জাপান সাগরে অন্তত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছেন জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৭ মিনিটের দিকে সিনপো শহর বা এর কাছাকাছি কোথাও থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের কাছের সাগরে ছোড়া হয় বলে দক্ষিণের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে।
সিনপোতেই পিয়ংইয়ং তাদের সাবমেরিন এবং সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) ছোড়ার সরঞ্জাম রাখে। উত্তর কোরিয়া ঐ এলাকা থেকে অন্য ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়ে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেছেন, তাঁরা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তর কোরিয়া যে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, তা ‘খুবই দুঃখজনক’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
এমন এক সময়ে পিয়ংইয়ং জাপান সাগরে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল, যখন সিউলে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাপ্রধানদের বৈঠকের একটি খবর চাউর হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ এ বৈঠকের কথা জানিয়েছিল। একটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীর (এডিএএক্স) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শতাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিরাও এখন সিউলে জড়ো হয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় এই প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, আক্রমণে সিদ্ধ হেলিকপ্টার, ড্রোনসহ অত্যাধুনিক সব অস্ত্র, মহাকাশে পাঠানোর রকেট এবং বেসামরিক কাজে বায়ুমণ্ডল ও মহাশূন্যে পাঠানোর সরঞ্জাম দেখানো হবে। বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো নিজেদের বানানো একটি রকেটের পরীক্ষা চালানোরও পরিকল্পনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পিয়ংইয়ং যে একের পর এক নানা ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে, তার মধ্যে হাইপারসনিক, দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমানবিধ্বংসী অস্ত্রশস্ত্রও আছে। কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই উত্তর কোরিয়া তাদের এই অস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ সুনির্দিষ্টভাবে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা নিষিদ্ধ করেছিল।