কারখানায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে :সালমান এফ রহমান
ইত্তেফাক রিপোর্ট
তৈরি পোশাক ও রপ্তানিমুখী শিল্পের বাইরে ঢাক নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার অন্যান্য শিল্পকারখানা পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য ২৭টি পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরো ৮১টি টিম গঠন করা হবে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সবমিলিয়ে ৪৬ হাজার শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মিলনায়তনে, বিডা ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত কলকারখানা, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনা রোধ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গঠিত সমন্বিত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ টিমের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এমপি বলেন, গত ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে দেশের শিল্প কলকারখানাসমূহের অবকাঠামোগত এবং অগ্নি-দুর্ঘটনা ও অন্যান্য দুর্ঘটনা নিরোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ২৪ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চেক লিস্ট তৈরিসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যার ফলে আমরা কলকারখানা পরিদর্শন করে, আমাদের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে সমাধান বের করতে পারব। গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের বিপুল অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে, এখন এই অগ্রগতি ধরে রাখার জন্য এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়তে কলকারখানাগুলোকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে হবে। সেক্ষেত্রে কলকারখানায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণের কোনো বিকল্প নেই।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এহছানে এলাহীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন এবং এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ভবনের নকশা অনুমোদনের সঙ্গে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকে। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটলে শুধু মালিক পক্ষকে দায়ী করা হয়। দুর্ঘটনা তদন্তে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু আস্তে আস্তে কমিটিগুলোর কার্যক্রম দেখা যায় না। তাই সমস্যারও সমাধান হয় না। শিল্পকারখানায় দুর্ঘটনা এড়াতে প্লাস্টিক, রাসায়নিক ও হালকা প্রকৌশল শিল্পের স্থানান্তর প্রয়োজন। এজন্য সহজ শর্তে জায়গা বরাদ্দের আহ্বান জানান তিনি। শিল্পকারখানার সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে সুরক্ষা সেল গঠনের তাগিদ দেন তিনি।
বিডার নির্বাহী চেয়াম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ পরিদর্শন কার্যক্রম কোনোভাবেই কোনো অভিযান নয় বরং কলকারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক বেসরকারি সেক্টরকে উন্নত সেবা প্রদানের একটি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মো. এহছানে এলাহী বলেন, আমরা সবাই কাজ করছি কিন্তু সমন্বয়হীনতার কারণে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছি না। আমাদের কাজে মাধ্যমে কেউ যেন বিরক্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারখানার মালিকদের বোঝাতে হবে—আমরা কোনো কারখানা বন্ধ করতে আসিনি বরং বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি।