সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত সোমবার ভোর ৫টা থেকে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত টানা বর্ষণে সাতক্ষীরা সদর, তালা, কলারোয়া, আশাশুনি, দেবহাটা, কালীগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরা পৌরসভার নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। ভেসে গেছে জমির ফসল, আমনের খেত, মাছের ঘের ও পুকুর। দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
সাতক্ষীরা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নবাব আলী জানান, গত ২৪ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরা পৌর এলাকার কামালনগর, ইটাগাছা, খড়িবিলা, বদ্যিপুর কলোনি, শহরতলির বকচরা, কাশেমপুর, সরকারপাড়া, আমতলার মোড় এলাকা। পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ না থাকায় বৃষ্টির পানি এসব এলাকার বাড়িঘরে উঠতে শুরু করেছে। সাতক্ষীরা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রাণসায়ের খালও পানি টানতে পারছে না। শহরতলীর গোপীনাথপুর এলাকার বাসিন্দা দিপঙ্কর বাছাড় বলেন, ‘গত প্রায় ২০-২২ দিন আগের বৃষ্টিতে পুরো গোপীনাথপুর এলাকার সব বাড়িঘরে পানি উঠেছিল। কয়েক দিন ধরে পানি একটু কমলেও গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে ফের পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। বাড়ির উঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ঘর থেকে বের হওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। বাড়ি থেকে মেইন রাস্তায় যেতে হাঁটু সমান পানি। পানি না সরায় অনেক কষ্টের মধ্যে আছি আমরা।’
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী দুই দিন এভাবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে বলে জানান তিনি। তবে পরশু থেকে বৃষ্টিপাত কমতে পারে। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, এই বৃষ্টিতে ৭১০ হেক্টর আমনের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ১০২ হেক্টর জমির শাক-সবজির ক্ষতি হয়েছে।
শরণখোলায় ফসলের মাঠ প্লাবিত
পিরোজপুর অফিস ও শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে শরণখোলায় গ্রামাঞ্চলের ফসলের মাঠ, বাড়ি-ঘরসহ উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসের আবাসিক ভবনসমূহ প্লাবিত হয়েছে। খেটে খাওয়া মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। গত তিন যাবত্ অবিরাম বৃষ্টিপাতে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া, ইন্দুরকানি, মঠবাড়ীয়াসহ অন্যান্য উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সোনাতলা গ্রামের কৃষক ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু রাজ্জাক আকন জানান, ভারী বৃষ্টিপাতে আমন ফসলের খেত ডুবে গেছে, বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। বাড়ির আঙিনা পানিতে ডুবে যাওয়ায় মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। পূর্ব সুন্দরবনের দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহলাদ চন্দ্র রায় জানান, লঘুচাপের কারণে প্রবল বৃষ্টিপাতসহ সাগর উত্তাল অবস্থায় রয়েছে। ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এখন সাগরে কোনো ফিশিংবোট নেই বলে তিনি জানান। শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওয়াসিম উদ্দিন জানান, তিন দিনের বৃষ্টিপাতে ফসলের মাঠে এখন ধানগাছের গলায় গলায় পানি। বৃষ্টিপাত আরো ২/৩ দিন থাকলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাতুনে জান্নাত উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে এসে জানান, অতি বৃষ্টিতে উপজেলার গ্রামাঞ্চলসহ উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসে কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবনসমূহ বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে।