জাহাজের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি ও তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানির সুযোগ চেয়ে ভারতের প্রস্তাব

আজ বুধবার থেকে দিল্লিতে তিন দিনব্যাপী সচিব পর্যায়ের বৈঠকে অন্তত দুটি এজেন্ডা নিয়ে মতবিরোধের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যায়। বিশেষ করে কোস্টাল শিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিএসএ) এর আওতায় দুই দেশের জাহাজসমূহ ৬ হাজার টন পণ্য বহন করতে পারবে। কিন্তু দিল্লির পক্ষ থেকে ৬ হাজার টনের বেশি ওজনের পণ্য পরিবহনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই চুক্তির আওতায় দুই দেশের বন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য পরিবহনের প্রস্তাব করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ দুটি প্রস্তাবের ব্যাপারে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে। কারণ উপরিউক্ত এজেন্ডা নিয়ে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের আপত্তি রয়েছে।

সূত্র মতে, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি ২০১৫-এর অধীনে দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট ওজনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ বার্থিংসহ পোর্ট চার্জের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। সাধারণত বাংলাদেশ ভারত থেকে তুলাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে থাকে। ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসা জাহাজসমূহ ফিরতি যাত্রায় এক প্রকার খালি যেতে হয়। কারণ ভারতের বাংলাদেশ থেকে আমদানির পরিমাণ তেমন একটা না থাকায় উপরিউক্ত অবস্থার সৃষ্টি হয় বলে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ মনে করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ রুটে চলাচলকারী জাহাজের ধারণক্ষমতা বেশি হলে অপেক্ষাকৃত বড় জাহাজ বাংলাদেশ থেকে ফিরতি ট্রিপে বাংলাদেশ থেকে বহির্বিশ্বে রপ্তানি পণ্য ভারতের বিভিন্ন বন্দর হয়ে ইউরোপ, আমেরিকাসহ অন্যান্য গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। বাংলাদেশ থেকে প্রধানত গার্মেন্টস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের পণ্য স্বল্প সময়ে এবং অপেক্ষাকৃত কম খরচে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাক আমরা সেটাই চাইব। বর্তমানে সিঙ্গাপুর, কলম্বোসহ নির্দিষ্ট রুটে বাংলাদেশ থেকে ফিডার ভেসেল হয়ে মাদার ভেসেলের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছায়। কিন্তু নতুন প্রস্তাবনার আলোকে সময়ের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। কারণ ভারত থেকে সরাসরি মাদার ভেসেল পাওয়া না গেলে আমরা তাদের মাধ্যমে কেন পণ্য পাঠাব। একইভাবে বাংলাদেশ ফ্রেইড ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট খায়রুল আলম সুজন ইত্তেফাককে বলেন, আমদানি-রপ্তানিকারকদের স্বার্থ দেখে আমরা পণ্য জাহাজে দিয়ে থাকি। এক্ষেত্রে সময় ও অর্থ বিবেচনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তাছাড়া সিঙ্গাপুর, কলম্বোসহ বর্তমানে চালু রুটগুলো পরীক্ষিত। তাই নতুন রুট দিয়ে পণ্য চলাচল কতটুকু সাশ্রয়ী হবে তা বিবেচনায় নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, এ সব আলোচনায় নির্দিষ্ট ট্রেডের প্রতিনিধি থাকলে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়।

নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ মেজবাউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন দিনব্যাপী দিল্লি বৈঠকে চট্টগ্রাম, মোংলা, ল্যান্ড বন্দরসহ উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশগ্রহণ করবে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় সর্বশেষ সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, ইতিপূর্বের বৈঠকেও ভারত কর্তৃক প্রস্তাবগুলো দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বৈঠকে কোনো সুরাহা হয়নি। এবারের বৈঠকে ঢাকা ও দিল্লির উভয়ের দেওয়া কয়েকটি এজেন্ডা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে বলে জানা যায়। বিশেষ করে, পোর্ট কল হিসেবে কক্সবাজার ও নারায়ণগঞ্জের সামিট অ্যালায়েন্সের কনটেইনার টার্মিনাল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষে আপত্তি উত্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রবন্দরে কেবল সমুদ্রগামী জাহাজ বার্থিংয়ের পক্ষে অবস্থান নেবে বলে জানা যায়। তৃতীয় দেশে রপ্তানির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হলে ইতিপূর্বেকার উপকূলীয় জাহাজ চুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথ বাণিজ্য চুক্তি প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি) সংশোধন করার প্রয়োজন দেখা দেবে।