‘বঙ্গবন্ধুর অনুসৃত বৈদেশিক নীতির আলোকেই শান্তিরক্ষা কার্যক্রম চলছে’

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুসৃত বৈদেশিক নীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়’ এবং আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এ দু’য়ের আলোকেই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে মূল্যবোধ-ভিত্তিক অবদান রেখে চলছে বাংলাদেশ।’

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের বিশেষ কমিটির (সি-৩৪) সভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ অবদানসমূহের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তিরক্ষীদের যেকোনো ধরণের যৌন নির্যাতন ও এর অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ মহাসচিব ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল এবং এই নীতি অনুসরণ করেই বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীগণ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কাজ করছে।

আরো পড়ুন: কুমিল্লায় হত্যা মামলায় দুই নারীসহ ৫ জনের যাবজ্জীবন

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শান্তিরক্ষীদের যৌন নির্যাতন ও এর অপব্যবহারের রোধে গঠিত ‘সার্কেল অব লিডারশীপ’ এর একজন সদস্য। তাছাড়া আমরা যৌন নির্যাতন ও এর অপব্যবহার বন্ধে জাতিসংঘ মহাসচিবের স্ব-প্রণোদিত কম্প্যাক্টেরও সদস্য। রাষ্ট্রদূত মাসুদ জাতিসংঘের শান্তিবিনির্মাণ ও টেকসই শান্তি এবং মহাসচিবের ‘শান্তির কূটনীতি বিষয়ক পদক্ষেপসমূহের প্রতি বাংলাদেশের উচ্চকিত সমর্থনের কথা তুলে ধরেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের স্থায়িত্ব ও দক্ষতা নিশ্চিতে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ।

সেগুলো হল: ১) লক্ষ্য নির্ধারণে সৈন্য ও পুলিশ সরবরাহকারী দেশসমূহ, নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘ সদরদপ্তরের মধ্যকার ত্রয়ী সম্পর্ক শক্তিশালী করা, ২) কর্তব্যরত শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার উন্নয়ন, ৩) শান্তি রক্ষীদের কর্মদক্ষতা ও মান নিরূপণে সমন্বিত মূল্যায়ন ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সম্পদ ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সু-নিশ্চিতকরণ, ৪) সকল ধরণের যৌন নির্যাতন ও এর অপব্যবহার রোধে মহাসচিবের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ, ৫) নারী শান্তিরক্ষীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ, ৬) শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের পরিবেশগত প্রভাব হ্রাসে নতুন ও উদ্ভাবনশীল পন্থা খুঁজে বের করা, ৭) প্রযুক্তির (ড্রোন ইত্যাদি) সতর্ক ব্যবহার যেন তা কোনোভাবেই স্বাগতিক দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি না হয়। সাধারণ পরিষদের আওতায় সি-৩৪ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম রিভিউ এবং এর ভবিষ্যৎ দিক-নির্দেশনা প্রদানের মূল কমিটি।

ইত্তেফাক/বিএএফ