দলে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি ও নেইমার থাকার পরও সব আলো কীভাবে নিজের দিকে কেড়ে নিতে হয়, সেটা সম্ভবত এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি উপভোগ করছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। গতকাল (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে জার্মান ক্লাব আর বি লাইপজিগের মুখোমুখি হয়েছিল পিএসজি। সেটিতে নেইমার না খেললেও মেসি খেলেছেন এবং করেছেন জোড়া গোল। তবুও ম্যাচ সেরা প্লেয়ার নির্বাচিত হয়েছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপ্পে।
এই ম্যাচে চোটের কারণে স্কোয়াডে ছিলেন না ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার। তাতে যেন খুব একটা ক্ষতি হয়নি! আবারও পিএসজির জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। যদিও এবার সঙ্গে ছিলেন মেসিও। দু'জনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ঘরের মাঠে লাইপজিগকে ৩-২ গোলে হারিয়ে গ্রুপে নিজেদের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ফরাসি জয়ান্টরা।
জোড়া গোল করেছেন মেসি এবং একটি গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও করিয়েছেন আরও একটি। পাশাপাশি দলের জয়সূচক গোলটিতেও তার অবদান রয়েছে।
৪-৩-৩ ছকে সাজানো পিএসজির আক্রমণভাগে মেসি আর এমবাপ্পের সঙ্গে ছিলেন জার্মান উইঙ্গার ইউলিয়ান ড্রাক্সলার। মাঝমাঠে ইদ্রিসা গে, ইতালিয়ান মার্কো ভেরাত্তি ও স্প্যানিশ আন্দের এরেরা। রক্ষণে আশরাফ হাকিমি, মার্কিনিওস, প্রেসনেল কিমপেম্বে ও নুনো মেন্দেস এবং গোলবারের নিচে কেয়লর নাভাস।
এদিন শুরুতে পিএসজিকে চেপে ধরে জার্মান ক্লাবটি। ম্যাচের দুই মিনিটের মাথায় আক্রমণ করে বসে তারা। যদিও কনরাড লাইমারের ওই শট দারুণভাবে সেভ করেন নাভাস। ছয় মিনিটে আরও একটি সেভ করেন এই গোলরক্ষক। তবে দুর্দান্ত এক প্রতি আক্রমণে নয় মিনিটেই পিএসজিকে এগিয়ে নন এমবাপ্পে। অবশ্য ২৮ মিনিটের মাথায় সিলভার গোলে সমতায় ফেরে লাইপজিগ। পরে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৭ মিনিটে আনহেলিনো সহায়তায় লাইপজিগকে এগিয়ে নেন ফরাসি রাইটব্যাক নর্দি মুকিয়েলে।
এমন অবস্থায় যেন খোলস ছেড়ে বের হয়ে উঠলো পিএসজি। মুহূর্তের মধ্যে জ্বলে উঠলো মেসি-এমবাপ্পে জুটি। ৬৭ মিনিটে এমবাপ্পের সহায়তায় দলকে সমতায় ফেরান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসি। সাত মিনিট পর বক্সে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে যাওয়া এমবাপ্পেকে বাজেভাবে ফাউল করেন লাইপজিগের মোহাম্মদ সিমাকান। পেনাল্টি পেয়ে সেটি নিজে না নিয়ে মেসিকে দিয়ে করান এমবাপ্পে। ম্যাচের একেবারে শেষ মূহুর্তে আরেকটা পেনাল্টি পায় পিএসজি। হ্যাটট্রিক করার সুযোগ থাকলেও সেটা অবশ্য মেসি নেননি। নিঃস্বার্থভাবে এমবাপ্পেকে দেন। কিন্তু ফরাসি তারকা গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাতে কী? এরই মধ্যে যে ম্যাচ সেরা পুরস্কার তার হাতেই উঠেছে।
ইত্তেফাক/টিএ