ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত মাজার, কুলিপাড়া, মধ্যপাড়া, মাস্টার পাড়া, হেলাল মার্কেট, গাজিপাড়া, মোল্লাপাড়া, আদর্শ পাড়া এবং উত্তরখান (দক্ষিণ অংশ), উত্তরখান (উত্তর অংশ) এলাকা নিয়ে। যেখানে প্রায় ৩ লাখ মানুষের বসবাস। ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার। সাবেক উত্তরখান ইউনিয়ন থেকে সিটি করপোরেশনে এলাকাটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডটি আবাসিক এলাকা হলেও এখানে গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিত বিভিন্ন শিল্প-কারখানা। বেশির ভাগেরই নেই অনুমোদন। এসব কীভাবে আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে এ বিষয়ে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন বলেন, অপরিকল্পিতভাবে এসব গড়ে উঠেছে। তারা এখানে কীভাবে লাইসেন্স পেয়েছে এ বিষয়েও তিনি জানেন না।
ওয়ার্ডটি ইউনিয়ন থেকে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হলেও এখানে এখনো পৌঁছায়নি কোনো নাগরিক সুবিধা। বেশির ভাগ সড়কই এখনো কাঁচা। ভাঙাচোরা সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই জমে পানি। ড্রেনেজ সিস্টেম বলতে এখানে কিছুই নেই। শাহী মসজিদে দেখা যায়, এই সড়কে বেশির ভাগ সময় ধরে পানি জমে থাকে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এই রোডে অটোরিকশা চালক শামীম হোসেন বলেন, কাউন্সিলর এই সড়কে কোনো কাজই করেননি, সবসময় পানি জমে থাকে। এই এলাকার মানুষের কী দুর্ভোগ ! এখানকার মানুষই তা বলতে পারবে। নামেই শুধু সিটি করপোরেশন এলাকা। এই সড়ক সংস্কার করার উদ্যোগ নেয়নি এখানকার কোনো জনপ্রতিনিধি। জলাবদ্ধতা আর সড়কে খানাখন্দ এই ওয়ার্ডের বড় সমস্যা। কিছু সড়ক সলিং করা হলেও সেগুলোও ভেঙে গেছে। এই ওয়ার্ডে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম অটোরিকশা। খানাখন্দ সড়কের কারণে অটোরিকশাও অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। জনবহুল এই ওয়ার্ডে নেই কোনো খেলার মাঠ, পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার। গ্রামের আদলে গড়ে ওঠা এই ওয়ার্ডের সড়কে নেই সড়কবাতি। সন্ধ্যা নামতেই চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটে এখানে। এ ছাড়া এখানে রয়েছে ময়লা নিয়ে অব্যবস্থাপনা। সিটি করপোরেশন এখানে বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের দায়িত্ব নিয়ে এখনো টেন্ডার না দেওয়ায় বিশৃঙ্খলা রয়েছে। চার-পাঁচ দিনেও বাসাবাড়ি থেকে যারা ময়লা সংগ্রহ করে, তারা তা না নেওয়ার অভিযোগ করেছে এলাকবাসী। এ ছাড়া অতিরিক্ত টাকা আদায়েরও অভিযোগ তাদের।
এসব বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন থেকে আমরা যে বাজেট পেয়েছি তা দিয়ে কয়েকটি সড়ক সলিং করে দিয়েছি। কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হলে সেসব এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছি। এখানে কোনো ধরনের নাগরিক সুবিধা পৌঁছায়নি। সিটি করপোরেশন থেকে নতুন ওয়ার্ডের জন্য যে বাজেট ও পরিকল্পনা করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমবে।’