আয়ারল্যান্ডকে কাঁদিয়ে নামিবিয়ার ইতিহাস

স্পোর্টস ডেস্ক

পরিষ্কার চোখে গ্রুপ ‘এ’-এর তুলনামূলক দুর্বল দল ভাবা হচ্ছিল নামিবিয়াকে। কেননা অতীতে টি-২০র সর্বোচ্চ আসরে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না আফ্রিকার দেশটির। বিপরীতে শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস ক্রিকেটে পরিচিত মুখ। অথচ চমক দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত নামিবিয়াই ইতিহাস গড়ে উঠে গেল বিশ্বকাপের সুপার ১২-এ।  বাঁচা-মরার লড়াইয়ে গতকাল টেস্ট খেলুড়ে আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারানোয় আনন্দের অশ্রু বয়ে যায় নামিবিয়ানদের চোখে।

সেই আনন্দের মধ্যমণি ডেভিড ভিজে। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই খেলোয়াড়কে ঘিরেই সাজানো হয়েছিল পরিকল্পনা। তার প্রতিদান দিতে কোনো ভুল করেননি এই অলরাউন্ডার। প্রথমে শ্রীলঙ্কার কাছে হারের তার ৬৬ রানের ইনিংসেই নেদারল্যান্ডসকে ৬ উইকেটে হারায় নামিবিয়া। শেষ ম্যাচেও আলো ছড়ানো অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। প্রথমে বল হাতে দুই উইকেট নেওয়ার পর ১৪ বলে ২৮ রানের ঝোড়ো এক ইনিংস খেলে আইরিশদের কাঁদিয়ে দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে।

টানা দুই বার ম্যাচসেরা হওয়ার পর ভিজে বলেন, ‘পুরোই অবিশ্বাস্য। গেরহার্ডের ইনিংসের পর আমার মনে হয় না, আমি ম্যাচসেরা হওয়ার যোগ্য। এই মুহূর্তটা পুরোটাই তার এবং এখানে আসার আগে দলের বাকি সদস্যরাও প্রচুর পরিশ্রম করেছে। শারজায় আমি কিছু ম্যাচ খেলেছি এবং জানি উইকেট আমার বোলিংয়ের জন্য বেশ সহায়ক।’

৪৯ বলে ৫৩ রান করা নামিবিয়ান অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাসমাসের কণ্ঠে শুধু গর্বই ফুটে উঠছে, ‘আগেও বলেছি এক সংকুচিত জাহাজের মধ্যে আছি আমরা। ছোট দেশ যেখানে কম লোকই ক্রিকেট খেলে। নিজেদের নিয়ে আমাদের গর্ব হওয়া উচিত। কঠিন ম্যাচে চাপের সময় আমি ভিজের ওপর নির্ভর করি এবং দুজনেই ম্যাচ শেষ করে আসতে পেরেছি। আশাকরি টুর্নামেন্ট জুড়ে তা করতে পারব আমরা।’

শারজায় টস জিতে আগে ব্যাট করে নামিবিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বেশিদূর এগোতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। ইয়ান ফ্রাইলিংক ও ভিজের বোলিংয়ে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২৫ রান তুলে তারা। ২১ রানে তিন উইকেট নিয়ে ফ্রাইলিংক ছিলেন দলের সেরা বোলার। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কিছুটা ধীরে-সুস্থে আগায় নামিবিয়া। দুই উইকেট পড়ে  গেলেও মাটি কামড়ে পড়েছিলেন গেরহার্ড। কিছুটা নাটকীয়তা তৈরি হওয়ার আভাসও ছিল। কিন্তু ভিজে এসে চুরমার করে দেন আয়ারল্যান্ডের স্বপ্ন। গ্রুপ ‘এ’ থেকে সুপার ১২ ‘এ’ যাওয়া নামিবিয়ার অন্য সঙ্গী শ্রীলঙ্কা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : আয়ারল্যান্ড ১২৫/৮ (স্টারলিং ৩৮, কেভিন ২৫, বালবার্নি ২১; ফ্রাইলিংক ৩/২১, ভিজে ২/২২)

নামিবিয়া ১২৬/২ (উইলিয়ামস ১৫, গ্রিন ২৪, ইরাসমাস ৫৩*, ভিজে ২৮*; ক্যামফার ২/১৪)

ফল :নামিবিয়া ৮ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরা : ডেভিড ভিজে।