সৈয়দপুরে বছরে দুই বার পেঁয়াজ চাষের উদ্যোগ

দূর হবে সংকট!

মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

প্রতি বছর সংকটে পড়েন ব্যবসায়ীরা। ফলে বাজারে বেড়ে যায় পেঁয়াজের দাম। এই সংকট ও আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে পরীক্ষামূলক বছরের দুই বার পেঁয়াজ চাষের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। বিশেষ পদ্ধতিতে প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা। ফলে হাতের নাগালে মিলবে পেঁয়াজ।

সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে প্রথমে ৩০ জন কৃষক ও জমি বাছাই করা হয়। তাদের দেওয়া হয় পেঁয়াজের বীজ, সার ও আর্থিক সহায়তাসহ অন্যান্য সুবিধা। এসব দেওয়া হয় সরকারি প্রণোদনার আওতায়। উপজেলার কামারপুকুর, কাশিরাম বেলপুকুর, খাতামধুপুর, বাঙ্গালীপুর ও বোতলাগাড়ি ইউনিয়নে কৃষকরা সেই বীজ নিয়ে অঙ্কুরোদ্গম করেন। তারপর জমি তৈরি করে বপন করেন। সৈয়দপুর কৃষি বিভাগ জানায়, সংকটকালে বাজারের চাহিদার বিপরীতে জোগান ঠিক রাখতে বছরে দুই বার পেঁয়াজ চাষের উদ্যোগী হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। কৃষি বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও পরামর্শে পেঁয়াজ চাষ নিয়ে অনেকটা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নির্বাচিত কৃষকরা। বাঙ্গালীপুরের বালাপাড়া ও বোতলাগাড়ির সোনাখুলিতে দেখা যায়, পেঁয়াজ চাষে মনোনিবেশ করেছেন অনেকে। কেউ জমি তৈরি করছেন, কেউবা বপন করছেন, কেউবা পলিথিনে ছাউনি তৈরি করছেন। কৃষি বিভাগ জানায়, উপজেলার ৩০ জন কৃষকের মাধ্যমে ১০ হেক্টর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এ পেঁয়াজের চাষ শুরু হয়েছে। এর থেকে সফলতা আসলে আগামীতে গোটা উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে এ পেঁয়াজের আবাদ।

কৃষি বিভাগের মতে, নাসিক বেড-৫৩ জাতের পেঁয়াজ সংক্ষেপে এন-৫৩ দুই মৌসুমে আবাদ করা যাবে। শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে এই জাতের পেঁয়াজ চাষের উপযোগী। বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি মোকাবিলায় এটি কার্যকরী হবে। ওরিয়ন কোম্পানির এই পেঁয়াজের বীজ মানসম্মত ও পরীক্ষিত বলছে কৃষি বিভাগ। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহিনা বেগম জানান, কৃষি বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরামর্শে কৃষকরা এই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে এ জাতের পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছেন। টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করছে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মাটি এ জাতের পেঁয়াজ চাষের উপযোগী। তা আগেই পরীক্ষা করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। সব ধরনের সাপোর্ট কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে।