মিয়ানমারে আবারও নৃশংসতার আশঙ্কা, জানিয়েছে জাতিসংঘ

উত্তরাঞ্চলে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন

আলজাজিরা

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে হাজার হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় ঐ অঞ্চলে ব্যাপক হারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ। সেখানে সেনাবাহিনী আগের মতো আবারও নৃশংস কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্ট উপস্থাপনকালে অ্যান্ড্রুজ বলেন, ‘আমি তথ্য পেয়েছি যে মিয়ানমারের দুর্গম উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হাজার হাজার সৈন্যসহ ভারী অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। এই তথ্যগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, জান্তা সরকার মানবতার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ অ্যান্ড্রুজ বলেন, ‘আমাদের সকলের প্রস্তুত থাকা উচিত, মিয়ানমারের এই অংশের লোকেরা আরো বেশি গণহত্যার মুখোমুখি। আমি আশা করছি, আমার আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হোক’।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করে সেনাবাহিনী। তারপর থেকেই মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্থানীয় একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-প্রতিবাদে মিয়ানমারে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া আটক হয়েছেন আরো ৮ হাজারের বেশি মানুষ।

এর আগে ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে হত্যা, নারীদের ধর্ষণ এবং নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে বহু মানুষ প্রাণ হারায়। জীবন বাঁচাতে তখন লাখ লাখ মানুষ পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ২০১৭ সালে রাখাইন থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। সেই সময় রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন, নিপীড়ন এবং হত্যার ঘটনাকে জাতিগত নিধন বলে উল্লেখ করে জাতিসংঘ।