নারায়ণগঞ্জে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতার হাতে নৌকা!

আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা বঞ্চিত 

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

বহিষ্কৃত এক বিএনপি নেতার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেতারাও প্রশ্ন তুলছেন। এ ছাড়াও এমন ঘটনায় বিস্মিত অনেকে বলছেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না, দলটির দুর্দিন চলছে, তাই হয়তো বিএনপি থেকে সেন্টুকে এনে নৌকা তুলে দেওয়া হয়েছে।’ তারা বলছেন, ‘এতে করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগকে কে বা কারা প্রশ্নবিদ্ধ করল! সেন্টুকে নৌকা প্রতীক এনে দেওয়ার নেপথ্য কুশিলবই বা কে বা কারা? সেন্টু আওয়ামী লীগের কেউ নন। তিনি নৌকা কী করে পায়’, খোদ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই নিজেও এমন প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সূত্র জানিয়েছে, মনিরুল আলম সেন্টু নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এক সংসদ সদস্যের  ঘনিষ্ঠ। এ ছাড়াও ঐ সংসদ সদস্যের এক ঘনিষ্ট অনুসারির ব্যাবসায়িক পার্টনার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু তিনি  এবং এই মনিরুল আলম সেন্টুকে তাদের প্রয়োজন। ফলে তিনিই এখন তাদের সুজন আর সুখে দুঃখের সাথি হিসেবে পাশে থাকেন। আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সিকদার মোহাম্মদ গোলাম রসূল হয়েছেন বঞ্চিত। জীবনভর আওয়ামী লীগ করা এই নেতাকে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে চলছে দল ও দলের বাইরে তুমুল সমালোচনা।

এদিকে এমন সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুুল হাই। তিনি জানিয়েছেন, প্রার্থী তালিকায় মনিরুল আলম সেন্টুর নাম থাকায় তিনি সেই সুপারিশে স্বাক্ষর করেননি। আবদুল হাই বলেন, মনিরুল আলম সেন্টু আওয়ামী লীগের কেউ নন। তিনি তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের লোক। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত এককভাবে মনিরুল আলম সেন্টুকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছেন। এতে তার সায় নেই। তার স্বাক্ষর ছাড়াই মনিরুলের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি গণমাধ্যমে দাবি   করেছেন। মনিরুল আলম সেন্টুকে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। তবে তিনি প্রভাবশালী সংসস্যের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এ ব্যাপারে স্থানীয় নেতারা কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না।

তাদের অভিযোগ, এর আগে ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে মনিরুল আলম সেন্টুকে জয়ী করতে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করে আওয়ামী লীগের ঐ অংশ। ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম রসুল সিকদার পান ১০ হাজার ৯৮৭ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনিরুল আলম ৪২ হাজার ৯০৩ ভোট পান। ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী গোলাম রসুল সিকদারের পক্ষে ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টও খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফতুল্লায় আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পক্ষে প্রচারণা অনুষ্ঠানে নৌকায় ভোট চাওয়ায় তত্কালীন বিএনপির সহসভাপতি মনিরুল আলমকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, দলের আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন মনিরুল আলম। তার বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।