ডিজিটাল ব্যাংকিং ও সিএসআর কার্যক্রমের প্রসার ঘটাতে চায় এফএসআইবিএল

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এফএসআইবিএল)। যাত্রা শুরু ১৯৯৯ সালের ২৫ অক্টোবর। তখন নাম ছিল ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক লিমিটেড। পরে ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়। গত ২১ বছর ধরে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখছে ব্যাংকটি। আজ এই ব্যাংক ২২ বছরে পদার্পণ করছে। এ বিষয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী বলেন, বর্তমানে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের শাখার সংখ্যা ১৯৩। আর উপশাখা ১২২টি। এছাড়া ৬৫টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট, ১৯২টি নিজস্ব এটিএম বুথ রয়েছে। ২০২০ সাল শেষে ব্যাংকের মোট আমানত ছিল ৪২ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। আর এখন তা পৌঁছেছে ৪৫ হাজার ১৮৪ কোটি টাকায়।

আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় বড় ভূমিকা রাখছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। ২০২০ সালে ব্যাংকের আমদানি বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ হাজার ৩০২ কোটি টাকা। অন্যদিকে রপ্তানি বাণিজ্য হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ২৪১ কোটি টাকার। আবার ইসলামি ব্যাংকিংয়ের অন্যতম ব্যাংক হিসেবে এই ব্যাংকের মাধ্যমে বড় অংশ রেমিট্যান্স এসেছে। বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর জন্য সরকারঘোষিত ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রয়েছে। ২০২১ সালে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স এসেছে।

বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে একটি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হলো সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ‘সবার জন্যে সব সময়’ স্লোগান নিয়ে অসহায়-দুস্থ, দুর্যোগপীড়িত ও আর্ত মানবতার সেবায়  উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে। বিগত বছরগুলোর ন্যায় ২০২০-২১ সালেও ব্যাংক অসহায় ও দুর্যোগপীড়িত মানুষের পাশাপাশি উপকূলীয় বিভিন্ন দুর্যোগ প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমসহ নানান সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য আবদান রেখেছে।

প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হিসেবে এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড তার ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফরমকে আরো সম্প্রসারিত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রমের জন্য গ্রাহকদের জন্য রয়েছে আমাদের সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা। এফএসআইবিএল ‘ক্লাউড অ্যাপস’-এর ফ্রিডম ফিচারের মাধ্যমে একজন গ্রাহক ঘরে বসেই ই-কেওয়াইসি ফর্ম পূরণসহ নিজেই নিজের অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। এছাড়া আমাদের এই অ্যাপস ব্যবহার করে সব ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং সেবাসমূহ গ্রহণ করা যায়, যেমন ‘নগদ’ ও ‘বিকাশ’-এ ব্যালেন্স ট্রান্সফার; ডিপিডিসি, ডেসকো, ঢাকা ওয়াসা বিল পেমেন্ট করা যায়। এছাড়া আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন এই ব্যাংকের গ্রাহকেরা।

সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী বলেন, জনমনে এখনো এই ধারণা কিছুটা বিদ্যমান যে প্রচলিত ও ইসলামি ব্যাংকিং একই, শুধু নামেই আলাদা। মূলত তাদের কাছে ইসলামি ব্যাংকিং পদ্ধতি সম্পর্কে পরিপূর্ণ বার্তা না পৌঁছানোর কারণেই এমন ধারণা, যা খুবই স্বাভাবিক। কীভাবে শরিয়াহ ভিত্তিতে ইসলামি ব্যাংক কাজ করে, তা আমরা জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। তৈরি করতে চাই শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ কর্মিবাহিনী বা মানবসম্পদ।

ইতিমধ্যে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের সম্প্রসারণে জনসাধারণের মধ্যে ইসলামি ব্যাংকিং সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করছি। এছাড়া ইসলামি ব্যাংকিং সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহ জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, ঊর্ধ্বতন নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ইসলামি অর্থনীতিতে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশের বিভিন্ন ব্যক্তির অংশগ্রহণে প্রশিক্ষণ-কর্মশালার আয়োজন করছি। তিনি বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রেখে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে একটি আধুনিক কল্যাণমূখী ইসলামি ব্যাংক হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবে।