তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর হাজার হাজার আফগান দেশ ছেড়ে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমায়৷ দেশ ছেড়ে জার্মানিতে আসা আফগানরা আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ নানা ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে দিন যাপন করছেন৷ এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে জার্মান ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচভেলে।
আফগানিস্তান থেকে আসা এসব আশ্রয়প্রার্থীরা নানা কারণেই অনিশ্চয়তায় ভুগছেন৷ এর মধ্যে আছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তজনিত জটিলতা, কাদেরকে জার্মান সরকারের সাবেক চাকুরিজীবী বলা হবে তার জটিলতা আর সেই সাথে রয়েছে জার্মান সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা৷
জার্মান সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতার সমস্যাটি তালেবানদের ক্ষমতা দখলের আগেই দেখা গেছে৷ যেমন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কয়েকমাস ধরে আলাপ-আলোচনার পরেও কাদেরকে জার্মান সরকারের চাকুরিজীবী বলা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে নিতে পারেনি৷
প্রথমদিকের বলা হয় যে, যারা সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য দুই বছর কাজ করেছে তাদেরকে জার্মান সরকারের চাকুরিজীবী হিসাবে সুবিধা দেওয়া হবে৷ এজন্য তাদেরকে নিজেদের উদ্যোগে জার্মানিতে আসতে হবে৷
গত জুন মাসে, দেশটির প্রতিরক্ষা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করে৷ বলা হয়, ২০১৩ সাল থেকে যারা জার্মান সরকারের জন্য কাজ করেছেন তাদেরকে জার্মান সরকারের চাকুরিজীবী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে৷
কিন্তু এতে বাধ সাধে দেশটির বাকি দুই মন্ত্রণালয়৷ কেননা, এমন সিদ্ধান্তের ফলে আফগানিস্তানে থাকা জার্মান কূটনীতিকদের স্থানীয় সহযোগীরা দেশত্যাগ করতে পারে৷ যার ফলে দেশটিতে তাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে৷
এদিকে সরকারের পদক্ষেপ দেখে বোঝা যায় যে, তালেবানরা যে এতো দ্রুত ক্ষমতা দখল করে নিবে তা তারা আন্দাজ করতে পারেনি৷ যে কারণে আশ্রয়প্রার্থীদের সরিয়ে আনার প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল৷
এসব জটিলতার পর ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত জার্মানি পাঁচ হাজার চারশ আফগানকে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়৷ জার্মানিতে আসার পর বিমানবন্দরে তাদেরকে এন্ট্রি ভিসা দেয়া হয়৷ আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে পালিয়ে আসাদেরও একই ধরনের ভিসা দিয়ে নিয়ে আসা হয়৷
ইত্তেফাক/এএইচপি