সাম্প্রদায়িক হামলার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ ----------- মীর্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে পুজামণ্ডপসহ যেসব বাড়িতে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটছে তাতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের লোকজন নেতৃত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, আজকেও পত্রিকায় এসেছে, রংপুরে যে ঘটনা ঘটেছে, তার নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতা সৈকত। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের উপাসনালয়গুলোর  নিরাপত্তা নেই । ইসলাম ধর্মে যারা বিশ্বাস করেন, তাদেরও  নিরাপত্তা নেই এখানে। সামগ্রিকভাবে জনগণের নিরাপত্তা দিতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের যেহেতু জনগণের সাথে সম্পর্ক নেই, জনগণের ভোট তারা পায় না। এজন্য জনগণের দৃষ্টিটাকে ভোটের অধিকার, গণতন্ত্রের অধিকার থেকে সরানোর জন্য সরকার এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।

রবিবার সকালে মির্জা ফখরুল বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছে  হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। একটি নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণ করব। আর সেজন্যই আমরা আন্দোলন করছি। এসময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির নির্বাহী সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল পরে বিএনপির সাবেক এমপি প্রয়াত নুরুল হক আছপিয়ার শোকসভায় যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে সুনামগঞ্জ রওয়ানা দেন।

‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি থেকে

মানুষের দৃষ্টি ফেরাতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা’

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি থেকে দৃষ্টি সরাতে সরকার এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টি করেছে। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু এক্ষেত্রে এই আওয়ামী লীগ সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এসব দায় নিয়ে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘরে একটি রেস্ট হাউজে গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল প্রমুখ।

বিএনপির মহাসচিব এর আগে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক হুইপ মরহুম অ্যাডভোকেট ফজলুল হক আসপিয়ার বাসায় গিয়ে ওনার বড় ছেলে ব্যারিস্টার আবিদুল হকসহ পরিবারের সবাইকে সহমর্মিতা জানান।