কোনো উইকেট না হারিয়েই ভারতকে হারাল পাকিস্তান

ওয়ানডে হোক বা টি-২০, বিশ্বকাপ এলেই ভারতের কাছে মাথা নিচু করে মাঠ ছেড়েছে পাকিস্তান। টানা ১২ বার এমনটাই হয়ে এসেছে। কিন্তু ১৩তম বারের দেখায় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দিল না পাকিস্তান। বিরাট কোহলিদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে নতুন করে ইতিহাস লিখল তারা। দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মাঠভর্তি দর্শকের সামনে প্রথম বারের মতো কোনো উইকেট না হারিয়েই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে স্মরণীয় এক জয় তুলে নেয় বাবর আজমের দল। তাতে চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে তাদের শুরুটাও করল দুর্দান্তভাবে।

ক্রিকেটের প্রাচীন মহারণ নিয়ে কথার যুদ্ধ শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। অতীতে আস্থা রেখে ভারতকে ফেভারিটের তালিকায় রেখেছেন অনেকেই। অন্যদিকে জয়হীন পাকিস্তানকে নানান জায়গায় বিদ্রুপের শিকারও হতে হয়েছে। কিন্তু অধিনায়ক বাবরের কণ্ঠে ছিল জয়ের হুংকার। সেই হুংকারেই মাঠের মধ্যে কাপিয়ে দিলেন ভারতকে। মোহাম্মদ রিজওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংসের শুরুটা যেমন করেছেন, তেমনি শেষটা টেনেই মাঠ ছেড়েছেন বাবর। কোহলিকে নির্বাক বানিয়ে খেলেন ৫২ বলে ৬ চার ও ২ ছয়ে ৬৮ রানের নান্দনিক এক ইনিংস। অপর প্রান্তে থাকা রিজওয়ানের ৭৯ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬ চার ও ৩ ছয়ে।

তবে পাকিস্তানের ১০ উইকেটে জয়ের মূল নায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরার পুরস্কারটি ভাগিয়ে নিয়েছেন এই পেসার। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ভারত ৬ রানেই হারিয়ে ফেলে দুই ওপেনার রোহিত শর্মা (০) ও লোকেশ রাহুলকে (৩)। তিন ওভারের মধ্যে দুজনকেই সাজঘরের পথ দেখান শাহিন। ৩১ রানে হাসান আলির বলে সুর্যকূমার যাদব ফিরে গেলে আরো বিপদে পড়ে ভারত।

তখনই রিশাভ পান্টকে নিয়ে হাল ধরেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ধীরে সুস্থে এগোতে থাকেন সম্মানজনক স্কোরের দিকে। কেননা, দুবাইয়ের উইকেটে মাঝারি মানের স্কোর গড়লেও ম্যাচে থাকা যায়। পান্ট ৩৯ রানে ফিরলেও ফিফটি পেয়ে বড় স্কোরের পথে ছিলেন কোহলি। কিন্তু ১৯তম ওভারে এসে সেটা হতে দেননি শাহিন। তার বলে উইকেটকিপার রিজওয়ানের কাছে ক্যাচ দিয়ে ৫৭ রানে ফেরেন ভারতীয় অধিনায়ক। ২০ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৫১ রান।

জবাব দিতে নেমে শুরুটা খুবই দেখে-শুনে করেন বাবর-রিজওয়ান। একদম নিখুঁত ব্যাটিং যেটাকে বলে, সেটাই করেছেন তারা। ভালো বলকে শ্রদ্ধা যেমন দেখিয়েছেন, তেমনি বাজে বলকে ধোলাই করে ছেড়েছেন। তাই তো প্রতি ওভারেই হতাশা নিয়ে ফিরতে হয় ভুবনেশ্বর কুমার, জাসপ্রীত বুমরাহ, মোহাম্মদ শামি, বরুণ চক্রবর্তী, রবীন্দ্র জাদেজার মতো বোলারদের; যেটা সচরাচর দেখা যায় না। তাই কোনো রকমের ঝুঁকি ছাড়াই ১৩ বল হাতে রেখে ম্যাচ শেষ করেন রিজওয়ান-বাবর।        

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ভারত :১৫১/৭ ২০ ওভার (কোহলি ৫৭, পান্ট ৩৯, জাদেজা ১৩; শাহিন ৩/৩১, হাসান ২/৪৪, শাদাব ১/২২)।

পাকিস্তান :১৫২/০ ১৭.৫ ওভার (রিজওয়ান ৭৯*, বাবর ৬৮*; শামি ০/৪৩, বরুণ ০/৩৩, জাদেজা ০/২৮) ।

ফল :পাকিস্তান ১০ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ-সেরা :শাহিন শাহ আফ্রিদি।