সামরিক অভ্যুত্থানে সুদানের সরকার পতন হয়েছে। অভ্যুত্থানের পর আফ্রিকা মহাদেশের এই দেশটির প্রধানমন্ত্রী, সরকারের ৫ মন্ত্রীসহ বহু রাজনীতিককে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী। গ্রেফতারের পর প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদককে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে সামরিক অভ্যুত্থানের পক্ষে ও বিপক্ষে রাজপথে মিছিল হয়েছে। বিপক্ষ অবলম্বনকারী জনতার ওপর সেনাবাহিনী গুলি ছুড়েছে বলে তারা দাবি করেছে। দুই বছর আগে এক সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন সুদানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির। সেনাবাহিনী এবং গণতন্ত্রপন্থী রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে তৈরি হয়েছিল দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দুই বছর পর সেই সরকারকেও উত্খাত করা হল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন্তর্বতী সরকারের অন্যান্য প্রতিনিধিদেরও বন্দি করা হয়। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষে কিছু বলা না হলেও সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয় একটি ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, রবিবার রাতে সুদানের প্রধান শহর ওমদুরমান ঘিরে ফেলে যৌথ সেনাবাহিনী।
সুদানে নতুন সরকার এবং সেনাবাহিনীর বনিবনা হচ্ছিল না অন্তর্বর্তীকালীন শাসন পরিষদ গঠনের পর থেকেই। তবে বিরোধ এতদূর গড়াবে যে বশিরকে উত্খাত করার দু’বছরের মধ্যেই আরও একটি সেনা অভ্যুত্থান হবে, সেটা কেউই কল্পনা করেনি। তথ্য মস্ত্রণালয়ের ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, এই অভ্যুত্থানে প্রকাশ্যে সমর্থন করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী হামদকের উপর। তবে তিনি নতি স্বীকার করেননি। বরং দেশের মানুষের কাছে হামদক অনুরোধ করেছেন, তারা যেন শান্তিপূর্ণ ভাবে এই অভ্যুত্থানকে প্রতিহত করেন। অভ্যুত্থানের খবর প্রকাশ্যে আসার পর গতকাল সোমবার সকাল থেকেই সুদানের রাজধানী শহর খার্তুমের পথে নামেন গণতন্ত্রপন্থীরা। রাজপথে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে রাজধানীর সর্বত্র সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বিমানবন্দরও।
এদিকে, সুদানের সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
অভ্যুত্থানের পর রাজধানী খার্তুমে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে রাজপথে ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভের ছবি প্রকাশ হওয়া বন্ধ করতে এই ব্যবস্থা নেয় সেনাবাহিনী। সাধারণ জনগণের বাইরে চলাচলেও বাধা দেয়া হচ্ছে। দুপুরের দিকে খার্তুম বিমানবন্দর বন্ধ করে করে দেয়া হয় যেন সরকারের কেউ দেশত্যাগ করতে না পারে। ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় সংবাদকর্মীরাও সেখান থেকে খবর সংগ্রহ ও প্রচার করতে সমস্যায় পড়ছেন।
জানা গেছে, একমাস আগেও দেশটিতে অভ্যুত্থানচেষ্টা হয়। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে সেসময় বলা হয়েছিল, একদল সেনা এই অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিলেন। সুদান সরকার তখন বলেছিল, সীমিত সংখ্যক ব্যক্তি ওই অভ্যুত্থানচেষ্টায় জড়িত ছিলেন। তাদের নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।