সম্প্রীতি বাংলাদেশের সমাবেশে বক্তারা

রাজনৈতিক কারণেই ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা, রুখে দাঁড়ান

 ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপরে সাম্প্রতিক হামলা রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িকতা। বাংলাদেশে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্যই বারবার হিন্দু, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপরে হামলা হতে দেখা যায়। অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তিকে জোট বেঁধে এই অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে।

গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা’ শিরোনামে এই সমাবেশে ৮০টিরও বেশি সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করে। সংগঠনের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে সমাবেশের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপরে বারবার যে হামলা হতে দেখা যায় এটা রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িকতা। এই রাজনীতিকে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি দিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে। এই কাজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী বলেন, ‘যখন হামলা হলো তখন প্রশাসন পুলিশ কোথায় ছিল? তারা কী করেছে। রাষ্ট্র যদি ধর্মীয় উগ্রবাদ বন্ধ করতে না পারে তাহলে ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার তাদের নেই। মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত করতে আবারও যুদ্ধ করতে প্রস্তুত।’

মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্টের পক্ষে ড. আবুল আজাদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বারবার ধর্মীয় সহিংসতা হতে দেখা যায়। ইকবালের মতো এক দুই জন ধরে লাভ নেই। এই সাম্প্রদায়িক চক্রকে শাস্তি দিতে হবে।’ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ঢাকা মহানগরের সভাপতি চিত্ত রঞ্জন দাস বলেন, ‘যারা সাচ্চা মুসলমান তারা অন্য ধর্মের মানুষকে সম্মান দেন।’

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘হামলাকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এদেরকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করতে হবে। এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। কারণ ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর আঘাত এসেছে।’ অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল বলেন, ‘এদেশ মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবার। সবাইকে একজোট হয়ে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া, প্রজন্ম’৭১ এর আসিফ মুনীর তন্ময়, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সহসম্পাদক ডা. নুজহাত চৌধুরী, রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী দেবদা মন্দা প্রমুখ।