মাঝিপাড়ায় পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেন দুই শিবির কর্মী!

রংপুরের পীরগঞ্জের মাঝিপাড়ায় সাম্প্রতিক হামলার সময় দুই শিবির কর্মী নিজ হাতে পেট্রোল ছিটিয়ে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরা হলেন, আবদুল্লাহ আল মামুন (২৩) ও ওমর ফারুক (২৪)। গত রবিবার রাতে ঐ দুজনকে তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল সোমবার দুপুরে রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় ?আরো ১৩ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

চট্টগ্রামের জেএম সেন হলে পূজামণ্ডপে হামলা চেষ্টার মামলায় ১৬ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। নোয়াখালীতে মন্দিরে হামলা-ভাঙচুরসহ উসকানির ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ আরো ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কুমিল্লায় ধর্ম অবমাননার মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর ও আলোচিত সেই গদাটি উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, বিচারহীনতা, দোষারোপের সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির ফলে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। গতকাল কুমিল্লা টাউন হলে সুজনের নাগরিক সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা পুলিশ সুপারকে উদ্ধৃত করে রংপুর স্টাফ রিপোর্টার জানান, মামুন ও ফারুক জামায়াত-শিবিরের কর্মী। ঘটনার রাতে তারা পেট্রোল নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সাদুল্যাপুর থেকে পীরগঞ্জে এসে হামলায় অংশ নেয়। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার বিষয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এজন্য তাদেরকে আদালতে নেওয়া হয়েছে।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেস চন্দ্র জানান, গত ১৭ অক্টোবর উপজেলার বড় করিমপুর মাঝিপাড়া গ্রামে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৬৬ জন গ্রেফতার হয়েছে। এদিকে এ সহিংসতার ঘটনায় ?আরো ১৩ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল বিকালে পীরগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক ফজলে এলাহী খান এ আদেশ দেন। রংপুর আদালতের সাধারণ নিবন্ধক শহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, চৌমুহনীসহ জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় এবং কুমিল্লার ঘটনায় উসকানিমূলক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গতকাল সকালে পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম তার সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন: জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ফয়সাল ইনাম কমল (৩৯), সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মো. হারুনুর রশিদ (৪৮), জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রায়হান (৩৮), চরমটুয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল বারী চৌধুরী (৪৫) ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্যসচিব বেলায়েত হোসেন (২৬)।

এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ফয়সাল ইনাম কমল কুমিল্লার ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেওয়াসহ সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক পোস্টও দেন। এ ছাড়া ফয়সাল চৌমুহনীতে হামলা-ভাঙচুর চলাকালে উপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় নোয়াখালীতে যারা সহিংসতা চালিয়েছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ঐ হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত জেলায় ২৬টি মামলা  হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে ১৯২ জন।  

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, নগরীর জে এম সেন হলে দুর্গাপূজার মণ্ডপে হামলার চেষ্টা ও ব্যানার-পোস্টার ছেঁড়াসহ পুলিশের ওপর হামলা মামলায় এজাহারভুক্ত গ্রেফতার ১৬ জনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন মোহাম্মদ রেজার আদালত এই আদেশ দেন।

কুমিল্লায় ধর্ম অবমাননার মামলা সিআইডিতে, সেই গদা উদ্ধার

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, নগরীর নানুয়া দীঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখে ধর্ম অবমাননার ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ মামলার প্রধান আসামি ইকবাল হোসেনের দেখানো মতে রবিবার রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের অদূরে নগরীর দারোগাবাড়ি মাজার-মসজিদ লাগোয়া রাস্তার পাশের একটি ঝোঁপ থেকে হনুমানের মূর্তি থেকে নেওয়া গদাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় সিআইডির একটি ফরেনসিক টিম ঐ গদা থেকে আঙুলের ছাপ ও এর আশপাশে পাওয়া অন্যান্য বস্তু উদ্ধার করে আলামত হিসেবে জব্দ করে। গতকাল সিআইডি কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, মন্দির ভাঙচুরসহ বিভিন্ন ঘটনায় জেলায় এ পর্যন্ত ১০ মামলা ও ৫৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।