আগামী জাতীয় সংষদ নির্বাচন

অনলাইনে যাচ্ছে পোস্টাল ব্যালট

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদ্যমান পোস্টাল ব্যালট সিস্টেমকে আরো সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা, প্রবাসী, জেলবন্দিরা যাতে সহজে ভোট দিতে পারেন, সেই লক্ষ্যে পোস্টাল ব্যালটকে অনলাইনে নিয়ে যাওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এজন্য কমিশনের আইটি টিমকে এসংক্রান্ত প্রস্তাবনা উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত আলোচনায় এ নির্দেশনা এসেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, বিদ্যমান পোস্টাল ব্যালট সিস্টেমকে আরো কার্যকর ও সহজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালটে অনলাইনের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে কীভাবে ভোট দেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আইটি টিমকে এসংক্রান্ত প্রস্তাবনা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।

কমিশনের আলোচ্যসূচিতে প্রথমেই ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপি) সংশোধন’-এর বিষয়টি রাখা হয়। এর পরেই ‘পোস্টাল ব্যালটের পাশাপাশি অনলাইন ব্যালটে ভোটদানের ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিধি’সংক্রান্ত বিষয়টি আসে। বৈঠকে কীভাবে পোস্টাল ব্যালট সিস্টেমকে বাস্তবমুখী করা যায়, সেই সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রস্তাবনা আসে। এক জন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এক জন ভোটারের আবেদন সাপেক্ষে রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার পর ভোটদান শেষে আবার ডাকযোগেই রিটার্নিং অফিসার বরাবর সেই ব্যালট পাঠাতে হয়। এটি বিলম্বিত ও সময়সাপেক্ষ বলে মনে করছে ইসি। এই প্রক্রিয়া আরো সহজ করতে নানা প্রস্তাব ও পরামর্শ আসে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শাহদাত হোসেন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, প্রস্তাবনা অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে আগ্রহীরা অনলাইনে নিয়মকানুন মেনে রেজিস্ট্রেশন করে পোস্টাল ব্যালট ডাউনলোড করতে পারবেন। সেই পোস্টাল ব্যালট ডাউনলোড শেষে ভোট দিয়ে, পূর্বের নিয়মানুযায়ী ডাকযোগে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাবেন। এসংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে আইটি টিমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপর পুনরায় সভা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, আইটি টিমের প্রস্তাবনা আসার পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা বলা যাবে। তবে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে পোস্টাল ব্যালট সহজীকরণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। এর পরই আসবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপি) এবং এসংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের বিষয়াবলি।