নগর সংস্কৃতি

‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান’

ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালো গান, কবিতা ও কথনে। ‘সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দাঁড়াও’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি গতকাল সোমবার রাতে সম্প্রচারিত হয় ছায়ানটের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

ছায়ানট সভাপতি সন্্জীদা খাতুনের কথনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ক্ষমা করো হযরত’ পাঠ করেন জয়ন্ত রায়। লাইসা আহমদ লিসা গেয়ে শোনান—‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব বিষম ঝড়ের বায়ে/আমার ভয়ভাঙা এই নায়ে...।’ আব্দুল ওয়াদুদ পরিবেশন করেন ‘আর নহে, আর নয়/আমি করি নে আর ভয়’। এছাড়াও গান শোনান খায়রুল আনাম শাকিল। সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘আমরা মিলেছি আজ মায়ের ডাকে’। এরপর ‘ধর্মমোহ’ কবিতা আবৃত্তি করেন সুমনা বিশ্বাস। সুমন মজুমদার পরিবেশন করেন ‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান’ শিরোনামের সংগীত। এরপর আবৃত্তি করেন জহিরুল হক খান। চন্দনা মজুমদার শুনিয়েছেন ‘এমন মানব সমাজ কবে গো সৃজন হবে’ শীর্ষক সংগীত। সম্মেলক কণ্ঠে শিল্পীরা গেয়ে শোনায়—যশোর, খুলনা, বগুড়া, পাবনা, ঢাকা, বরিশাল, নোয়াখালী/তারা হিন্দু নয়, মুসলিম নয়, তারা শুধু বাঙালি...। এছাড়াও সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’ ও ‘বাংলার হিন্দু, বাংলার বৌদ্ধ’ শিরোনামের গান। জাতীয় সংগীতের পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় অনুষ্ঠান।

আধ্যাত্মিক ও ভাবধারার গানে মাতল শিল্পকলা প্রাঙ্গণ

আধ্যাত্মিক ও ভাবধারার গানের মাধ্যমে আব্দুল খালেক দেওয়ান এদেশের সংগীতানুরাগীদের শুধু সুরের আনন্দই দেননি গানের কথায় দিয়েছেন গভীর ভাবের স্পর্শ। সংগীতের সাধক আব্দুল খালেক দেওয়ান স্মরণে ঢাকার বাইরে ৪৯টি সংগীতাসর শেষে রাজধানীতে প্রথম ও সংগঠনের ৫০তম সংগীতাসরের আয়োজন করেছে দরবার-এ খালেক দেওয়ান নামের সংগঠন।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় সুরের এই আসর। অনুষ্ঠানের শুরুতেই খালেক দেওয়ানের জীবনীভিত্তিক একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর কথামালায় তাকে স্মরণ করেন আয়োজকরা।

‘শেখ রাসেলের গল্প’ :গত ১৮ অক্টোবর ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন। এ বছরই প্রথম বারের মতো জাতীয়ভাবে উদ্যাপিত হয় দিবসটি। গতকাল সোমবার বিকালে ‘শেখ রাসেলের গল্প’  শীর্ষক সেমিনার ও আলোচনাসভার আয়োজন করে জাতীয় জাদুঘর। সেমিনারে বক্তাদের আলোচনায় উঠে আসে শিশু রাসেলের সহজ-সরল জীবনের কথা। উচ্চারিত হয় রাসেলের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেদনার্ত অনুভূতির কথা। প্রকাশিত হয় রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাবনার কথা।   

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. জেবউননেছা। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন জাদুঘরের মহাপরিচালক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান।