পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্কের কূটনৈতিক উত্তেজনা কমেছে

তুরস্কে বিচারাধীন এক ব্যবসায়ীর মুক্তি দাবি করায় ক্ষুব্ধ আংকারা যুক্তরাষ্ট্রসহ ১০টি দেশের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের যে হুমকি দিয়েছিল, তা এড়াতে সেই সব দেশের দূতাবাসগুলো নতুন এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার কূটনৈতিক কনভেনশন মেনে চলে। তাদের এই ‘সুর বদলের’ পর থেকে তুরস্ক ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনাও অনেকটাই কমে এসেছে।

গত সপ্তাহে তুরস্কে নিয়োজিত ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত তুর্কি ব্যবসায়ী ও দাতা ওসমান কাভালার মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দিয়েছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় আংকারা প্রথমে ঐ রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠিয়ে বিবৃতিটিকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে উল্লেখ করে। শনিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জানান, তিনি ঐ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে ‘তুরস্কে অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি’ (পারসন ননগ্রাটা) ঘোষণা করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। আঙ্কারা শেষ পর্যন্ত ঐ নির্দেশ বাস্তবায়ন করলে তুরস্ক ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র হবে বলে আশঙ্কা ছিল পর্যবেক্ষকদের। পরে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান জানান, রাষ্ট্রদূতেরা তাদের আগের বক্তব্য থেকে ‘পিছু হটেছেন’, তাদের ভবিষ্যতে আরো সতর্ক হতে হবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পর সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সংকট সৃষ্টি করা কখনোই আমাদের উদ্দেশ্য নয়, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা, আইন ও অধিকারের সুরক্ষা দেওয়া।’ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এই ভাষণে তিনি আরো বলেন, ‘আজ ঐ দূতাবাসগুলো নতুন একটি বিবৃতি দিয়েছে। আমাদের দেশ ও জাতির নামে অপবাদ দেওয়া থেকে তারা পিছিয়ে এসেছে। আমার বিশ্বাস, এই রাষ্ট্রদূতেরা তুরস্কের সার্বভৌম অধিকারসংশ্লিষ্ট কোনো কিছু নিয়ে বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হবেন।’ কণ্ঠ চড়া থাকলেও সোমবার এরদোয়ানের মন্তব্যে উত্তেজনা প্রশমিত করার চেষ্টার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যেখানে শনিবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি ১০ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ ঐ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতেরা গত সপ্তাহে তুর্কি যে ব্যবসায়ী ও দাতার মুক্তি দাবি করেছিলেন, এরদোয়ানের সরকার সেই ওসমান কাভালাকে ২০১৩ সালে তুরস্ক জুড়ে বিক্ষোভে অর্থায়ন এবং ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টায় জড়িত থাকার দায়ে চার বছর ধরে আটকে রেখেছে। কাভালা তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্য যেসব দেশ তুর্কি এই ব্যবসায়ীর মুক্তি চেয়েছে সেগুলো হচ্ছে জার্মানি, ফ্রান্স, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, সুইডেন, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ড।