স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন ফায়ারম্যান এক স্বামী। পরে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে হাজির হয়ে অঙ্গীকার করেছিলেন স্ত্রীকে আর নির্যাতন করবেন না। সেই অঙ্গীকারের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের নির্দেশে স্ত্রীকে লিখে দিয়েছিলেন এক টুকরো জমি। যার পরিমাণ আট শতাংশ। সেই কাগজপত্রও দাখিল করেন আদালতে। পাশাপাশি আদালতে হাজির হয়ে সুখী দাম্পত্য জীবনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় এখন চাকরি ফেরত পেতে যাচ্ছেন সেই ফায়ারম্যান স্বামী।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের দেওয়া এমন আদেশে অবসান হলো স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য কলহের। টিকে গেল একটি সংসার। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
আদালত বলেছে, আমরা চাই আপনারা দুজন (স্বামী-স্ত্রী) ভালোভাবে থাকুন। এতে সবচেয়ে লাভবান হবে আপনাদের সন্তান। আপনার সন্তান বাবা ও মা দুজনকেই কাছে পাবে। সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, রাজশাহীতে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে ফায়ার ম্যান স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন তার স্ত্রী। ওই মামলায় স্বামীর সাজা হয় এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত হন। তবে আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্ট ওই নারীর স্বামীকে খালাস দেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে মামলা খারিজ চেয়ে আপিল বিভাগে সমঝোতার আবেদন দেন স্বামী।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ওই মামলার শুনানিকালে আপিল বিভাগে হাজির হয়ে স্ত্রী বলেন, আমার একটা সন্তান আছে, আমি চেয়েছিলাম স্বামী যেন আমার সঙ্গে ভালো আচরণ করেন। কিন্তু সে তা করেনি। যেহেতু আর নির্যাতন করবে না বলছে সেজন্য সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে আপোষের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।
তখন আপিল বিভাগ বলে, আপোষের পরও যদি আপনাকে নির্যাতন করে তখন কি করবেন? জবাবে ওই নারী বলেন, তাহলে সেটা আমার নসিব। এখন তাকে বিশ্বাস করা ছাড়া আমার আর কিছু করার নাই। আমি আমার স্বামীকে নিয়ে বাঁচতে চাই। আদালত বলেন, আপনার স্ত্রীকে দুর্বল মনে করবেন না। আমরা চাই সংসারটা টিকুক। একে অপরের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবেন।
সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার মামলাটি আদেশের জন্য কার্যতালিকায় আসে। আদালতে স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই হাজির ছিলেন। এ পর্যায়ে ফায়ারম্যান স্বামীর উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, মামলার নিষ্পত্তির পর আবার আরেকটি বিয়ে করবেন নাকি? জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, স্যার আর বিয়ে করব না। প্রধান বিচারপতি বলেন, যদি আবার বিয়ে করেন তাহলে এই আদেশ রিকল করে আপনাকে চাকরিচ্যুতির আদেশ দেওয়া হবে।
এ সময় ফয়ারম্যানের পক্ষে আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ শুনানি করেন।
ইত্তেফাক/ইউবি