নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষায় তদন্ত দ্রুত শেষ করার দাবি

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান অনুসন্ধান ও তদন্তকাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে ‘আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন’। গতকাল মঙ্গলবার সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এই দাবি জানানো হয়েছে। মানববন্ধনে মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী-অভিভাবক, সচেতন নাগরিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় অনিয়ম, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদে পর্যুদস্ত। বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে আজিম-কাসেম সিন্ডিকেটের দ্রুত বিচার সময়ের দাবি। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আজিম উদ্দিন এবং এম এ কাসেম সিন্ডিকেটের দুর্নীতি তুলে ধরে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়।

মানববন্ধন শেষে দুদকে ৮ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি পেশ করা হয়। দাবিসমূহ হচ্ছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ট্রাস্টি আজিম উদ্দিন আহমেদ এবং এম এ কাসেমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি ও গ্রেফতার, সব আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং আজিম-কাসেমসহ সিন্ডিকেটের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ, প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতির মূল আসামি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের দ্রুত বিচার, আজিম-কাসেম ও তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যদের সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি, ব্লগার রাজিব হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নাফিস ইমতিয়াজকে পুনরায় ভর্তি করানোর উপযুক্ত ব্যাখ্যা ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতার তদন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিয়ম মেনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা এবং আজিম-কাসেম সিন্ডিকেটের স্বজনপ্রীতির হাত থেকে রক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আইন ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন জুয়েল, সংগঠনের উপদেষ্টা ড. সুফী সাগর সামস, বাংলাদেশ সংবাদপত্র (গণমাধ্যম) কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান তালুকদার, আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. উজ্জ্বল হোসেন মুরাদ, বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান এম ইব্রাহিম পাটোয়ারী, সাংবাদিক নেতা কালিমুল্লা ইকবাল প্রমুখ।

মানববন্ধনে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কম মূল্যের জমি বেশি দামে ক্রয়, ডেভেলপার্স কোম্পানি থেকে কমিশন নেওয়া, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়, ১ লাখ টাকা করে সিটিং অ্যালাউন্স, অনলাইনে মিটিং করেও সমপরিমাণ অ্যালাউন্স গ্রহণ, নিয়ম ভেঙে ফান্ডের কোটি কোটি টাকা নিজেদের মালিকানাধীন ব্যাংকে এফডিআর, মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে কয়েক গুণ শিক্ষার্থী ভর্তি, অতিরিক্ত বিভাগ খোলাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ডুবছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যদিকে জঙ্গি মদতের পুরোনো রূপেও ফেরত গেছে তারা। ব্লগার রাজীব হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জঙ্গি নাফিস ইমতিয়াজকে পুনরায় ভর্তি করে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছে। আর এসবের পেছনে দায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ট্রাস্টি আজিম উদ্দিন এবং এম এ কাসেমের সিন্ডিকেট।