নয়াপল্টনে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, আটক ৩০

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে গতকাল বিএনপির সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধাওয়া, পালটা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন ১৫ জন। পুলিশ অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে। তবে বিএনপি দাবি করেছে তাদের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেলা ১১টার দিকে বিএনপি সম্প্রীতি সমাবেশ করে। একটি ট্রাকে শান্তি সমাবেশ শুরু হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দলের নেতারা সেখানে অংশ নেন। সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশ বাধা দিলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাইটিঙ্গেল মোড়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গলিতে অবস্থান নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে দেখা যায়। ১০-১২ মিনিট ধরে চলে এই সংঘর্ষ। নেতাকর্মীরা বলছেন, পুলিশ সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের মিছিল নিয়ে আসতে বাধা দিচ্ছিল। তারা মিছিল চলাকালীন লাঠিচার্জ শুরু করে।

মতিঝিল জোনের উপকমিশনার (ডিসি) আবদুল আহাদ বলেন, বিএনপির সমাবেশে আমরা বাধা দিইনি। তাদের মিছিলের অনুমতি ছিল না। তবু তারা মিছিল করছিল। বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বের হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। তখন পুলিশ আত্মরক্ষার্থে তাদের প্রতিহত করে। মিছিল ও আশপাশ থেকে ৩০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে জানান ডিসি আহাদ।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নয়াপল্টনে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত মিছিল করার কথা ছিল বিএনপির। এর আগে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে মির্জা ফখরুল মিছিল না করার কথা জানালেও বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন নেতাকর্মীরা। মিছিলটি কাকরাইল মোড়ের কাছে আসতেই শুরু হয় সংঘর্ষ।

পুলিশ বিনা উসকানিতে গুলি চালিয়েছে দাবি রিজভীর :দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে বিএনপির পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ বিনা উসকানিতে হামলা ও গুলি চালিয়েছে। পুলিশের গুলি ও হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বিএনপি নেতা গোলাম মাওলা শাহীন, এস এম জিলানী ও নজরুল ইসলামসহ ১৫ জনের অধিক নেতাকর্মী। গুরুতর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। আমি পুলিশের এ ন্যক্কারজনক হামলা এবং নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।