মেয়েসহ দম্পতিকে কুপিয়ে হত্যা, লাশ মিলল পুকুরে

খুলনায় স্বামী, স্ত্রী ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে কয়রা উপজেলার বামিয়া গ্রামে বাড়ির পাশে বাগালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশের পুকুর থেকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন কয়রা উপজেলার বামিয়া গ্রামের হাবিবুল্লাহ (৩৬), তার স্ত্রী বিউটি খাতুন (৩০) ও তাদের মেয়ে স্থানীয় জায়গীরমহল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী হাবিবা খাতুন টুনি (১২)। নিহত হাবিবুল্লাহ ঐ গ্রামের মাজেদ গাজীর ছেলে।

বামিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান জানান, সকালে স্থানীয়রা পুকুরের পানিতে একই পরিবারের তিন জনের লাশ ভাসতে দেখে। নিহতদের মধ্যে হাবিবুল্লাহর শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাথা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তার হাত-পা বাঁধা ছিল। এছাড়া তার মেয়ে টুনির কপালেও ধারালো অস্ত্রের বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি জানান, নিহত হাবিবুল্লাহ কৃষিকাজ ও রাজমিস্ত্রির জোগালের কাজ করতেন।  স্থানীয় গ্রামপুলিশ (দফাদার) আব্দুল গফুর জানান, সকালে পুুকুরের পানিতে লাশ দেখে প্রথমে ঘটনাটি বাগালি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার গাজী ও কয়রা থানা পুলিশকে জানাই। আব্দুস সাত্তার গাজী জানান, লাশ উদ্ধারের খবর পেয়েছি। তবে  বাড়িতে না থাকায় বিস্তারিত জানাতে পারছি না।

পুলিশ জানায়, নিহত হাবিবুল্লাহর হাত-পা বাঁধা ছিল এবং তার স্ত্রী ও মেয়ের জামা-কাপড় ছেঁড়া ছিল। তার বাড়ির দরজা-জানালা ভাঙা এবং ঘরে রক্তের দাগ রয়েছে। দরিদ্র ঐ পরিবারের বাড়ি থেকে লুট করার মতো তেমন কোনো মালামাল নেই। ধর্ষণের পর এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কয়রা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহাদাত্ হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে এবং কারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, দুপুর ৩টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।