আফ্রিকার দেশ সুদানে আবারও সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনায় রাজধানী খার্তুমসহ দেশের সর্বত্র রাজপথে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিয়ে, পতাকা উড়িয়ে রাস্তায় রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে রাজপথে। গুলিতে সাত জন নিহত এবং দেড় শতাধিক লোক আহত হয়েছে। তবু জনতা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মীরা ধর্মঘট করছেন এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় সামরিক হাসপাতালগুলোতে একমাত্র জরুরি সেবা ছাড়া অন্য কোনো চিকিত্সা দিতে ডাক্তাররা অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
রাতভর বিক্ষোভ প্রদর্শনের পরও বিক্ষোভকারীরা গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজপথ থেকে সরেনি। তারা বেসামরিক শাসন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে অনড় আছে। মানুষের দাবি বেসামরিক শাসন—এই স্লোগান দিয়ে, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে তারা রাস্তায় রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বহু নারী।
সোমবার অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ বুরহান বেসামরিক সরকার ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন। প্রধানমন্ত্রী, কয়েকজন মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের বন্দি করেন। এই অভ্যুত্থানকে নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। জাতিসংঘ নিরপত্তা পরিষদের বৈঠকে এই সংকট নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ বুরহান যুক্তি দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে এই অভ্যুত্থান ঘটানো হয়েছে।
মার্কিন সহায়তা স্থগিত :সুদানে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা ওমর আল-বশিরকে ২০১৯ সালে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে বেসামরিক নেতাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বিরোধ চলছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপ সুদানের শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। যুক্তরাষ্ট্র সুদানের জন্য বরাদ্দ ৭০ কোটি ডলার সহায়তা স্থগিত করেছে।
বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া :সুদানে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের খবরে বিশ্বনেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাজ্য, ইইউ, জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের সঙ্গে সুর মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও দেশটিতে রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।