নিবন্ধনহীন বেশকিছু ভুঁইফোড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে। অনেকে আগে থেকেই ই-কমার্সের নামে পরিকল্পিত প্রতারণাপূর্ণ ব্যবসার ফাঁদ পেতেছে নিজ পকেট পূর্ণ করার উদ্দেশ্যেই। ক্রেতা হিসেবে আমরা তীব্র আবেগপ্রবণ ও প্রচণ্ড রকম হুজুগে। অন্যদিকে আত্মপ্রবঞ্চনা কিংবা অন্যকে ধোঁকা দেওয়ার স্বভাব আমাদের মজ্জাগত। দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটের সেবার মান কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রম যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রয়োজন-অপ্রয়োজন নির্বিশেষে আমরা পণ্য কিনি বেশুমার। তাই ক্রেতা হিসেবে এখানে আমাদের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
ই-কমার্সের নামে ধোঁকাবাজি কিংবা জালিয়াতি শনাক্ত পরবর্তী উপশম চেষ্টার চেয়ে বরং শুরুতেই এর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ চেষ্টা গড়ে তোলাই ছিল কাঙ্ক্ষিত। বিশেষ করে দায়িত্বশীল সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওয়াকিবহাল না থাকায়, ই-কমার্স সেক্টরে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের নজরদারির অনুপস্থিতিতে সর্বোপরি সুনির্দিষ্ট বিধি ও নীতিমালার অবর্তমানে তথাকথিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো যা লুণ্ঠন করার তা পূর্বপরিকল্পনামাফিক হাতিয়ে নিয়েছে।
পণ্য কেনায় মনকাড়া প্রলোভন ও অভাবিত প্রক্রিয়ায় লাভবান হওয়ার লোভ দেখিয়ে দেশের ক্রেতাসাধারণের অসচেতনতার সুযোগে যারা এ ধরনের গণপ্রবঞ্চনা ও প্রতারণাপূর্ণ ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার মূলহোতা, তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা জরুরি। পাশাপাশি দেশে বিদ্যমান ই-কমার্স সেক্টরের আমূল সংস্কারসাধনপূর্বক অনলাইনভিত্তিক এ সেবা খাতটিকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের সংগত দাবি।
ওয়ারেছ আলী খান, সদর, রংপুর ৫৪০০