রাজারহাটে বন্যার পানি নেমে গেলেও রয়ে গেছে ক্ষতচিহ্ন

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

বন্যার পানি নেমে গেলেও রাজারহাটের চরাঞ্চলে ক্ষতির চিহ্ন রয়ে গেছে। বালুর নিচে পড়ে আছে আবাদি ফসল, টিন, আসবাবপত্র, শ্যালো মেশিন, নৌকাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। একরের পর একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। সোমবার উপজেলার চর তৈয়বখাঁ ও চর বিদ্যানন্দে দেখা গেছে বিধ্বস্ত অবস্থা।

চর বিদ্যানন্দের কৃষক মোফাজ্জল হোসেন জানান, এক একর জমিতে ধান, আলু, বাদাম ও মাষকালাই লাগিয়েছিলাম। কিন্তু বন্যায় সব শেষ হয়ে গেছে। চরের মানুষ কৃষির ওপর নির্ভর করে বাঁচে। যে ক্ষতি হলো, কোনোমতেই পোষানোর উপায় নেই। একেই চরের পশ্চিমে একরের পর একর জমির বাদাম মাটিতে শুয়ে পড়েছে। তার ওপর পড়েছে বালুর স্তর। কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি দুই একর জমিতে আগাম বাদাম আবাদ করেছিলাম। সব নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েক লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ পাইনি, কৃষি বিভাগের কোনো লোক আসেনি। চর তৈয়বখাঁর কৃষক আবুল হোসেন বলেন, জমিতে খাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তীব্র বেগে পানির স্রোত এসে সব লন্ডভন্ড করে দেয়। পাকা ধান কেটে বাড়িতে এনে রেখেছিলাম। কিন্তু সব স্রোতে ভেসে গেছে। এদিকে কয়েক দিন পানির নিচে থাকায় পচে যাওয়া পাকা ধান শুকাচ্ছেন কমলা বেগম। পাশে তার স্বামী হাজির উদ্দিন ঘর ঠিক করছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, ধান কেটে বাড়ির উঠানে রাখি। পরদিন সকালে দেখি কিছু নেই। সব ভেসে গেছে। আর জমিতে যা ছিল পচে গেছে। উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়ায়ও দেখা গেছে একই অবস্থা। চরের জাবেদ আলী ও শাহাদুল ইসলামের বাড়িঘর নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে স্রোতের তোড়ে। শুধু ভিটেমাটিটুকু পড়ে আছে। চরের বাসিন্দারা জানান, পশ্চিম প্রান্তের ১১টি পরিবারের ভিটেবাড়ি তলিয়ে আছে বালুর নিচে। শহিদুল ইসলাম বালুর নিচে চাপা পড়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় জানান, ধান, চাল, আলুসহ বাড়িতে অনেক কিছুই ছিল। এখন কিছুই নেই। প্রতিবেশী কাফি মিয়া বলেন, চারটি ঘর, শ্যালো মেশিন, ধান-চাল সব বালুর নিচে চলে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সম্পা আখতার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরে তাসনিম জানান, বন্যায় প্রায় ৩ হাজার পরিবারকে ত্রাণসহায়তা দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া নদীর ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার পরিবারের জন্য ঢেউটিন বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।