আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ নিত্য পণ্যের মূল্য বাড়লেও দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির পাশাপাশি খাদ্যশস্যের দাম বাড়ছে। তবে দেশের মূল্যস্ফীতির হার লক্ষ্যের মধ্যেই রয়েছে। সার্বিকভাবে দেশে মূল্যস্ফীতির হার বাড়েনি। তিনি বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত ইনফ্লেশন (মূল্যস্ফীতি) পর্যালোচনা করেই হালনাগাদ তথ্য নিই। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। তবে জ্বালানির দাম যেভাবে বাড়ছে খাদ্যশস্যের দামও সেভাবে বাড়ছে।
গতকাল বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বৈঠক দুটি অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় পুলিশের জন্য রাশিয়ান হেলিকপ্টার কেনাসহ মোট পাঁচটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি পুঁজিবাজারে হঠাত্ উত্থান ও পতনের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজারের বিনিয়োগে ঝুঁকির বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। সরকারের দায়িত্ব হলো পুঁজিবাজারকে নীতিগত সহায়তা দেওয়া। কেউ যদি অনেক লাভের জন্য চিন্তাভাবনা করেন, সেটি ঠিক হবে না। বাজারের একটা ভিত্তি রয়েছে, এটা দৈনিক ওঠানামা করে। তাই বুঝে শুনে বাজারে আসতে হবে।
ডলারের দর বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বাজার চাহিদা ও জোগানের ওপর ডলারের দাম নির্ভর করে। ডলারের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশ ব্যাংককে পরামর্শ দিয়েছে, এমন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফ আমাদের উন্নয়ন অংশীদার। তারা আমাদের সিদ্ধান্ত নয়, পরামর্শ দেয়। আমরা মনে করি আমাদের নিজস্ব যে নীতি রয়েছে সেটি সঠিক।
সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের জানান, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় মোট দুটি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী ওয়াসা কর্তৃক ‘রাজশাহী ওয়াসা ভূ-উপরিস্থিত পানি শোধনাগার’ প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যৌথভাবে বুয়েট ও এসএমইসি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডকে নিয়োগের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (১১টি)’ বিনিয়োগ প্রকল্পে দেশের ১১টি জেলায় ১১টি আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার নির্মাণে পণ্যের আটটি ও পূর্তকাজের ৫৪ প্যাকেজের ক্রয় কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত বাংলাদেশ ডিজেল প্ল্যান্ট লিমিটেড কর্তৃক বাস্তবায়নের ক্রয় প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় পাঁচটি প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে জননিরাপত্তা বিভাগের অধীন পুলিশ অধিদপ্তর কর্তৃক এমআই-১৭১এ২ মডেলের দুটি হেলিকপ্টার রাশিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ৪২৮ কোটি ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৬ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজ দুটি প্যাকেজের পূর্তকাজ ১০০ কোটি ৬১ লাখ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক কাফকো, বাংলাদেশ হতে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১৮৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পৃথক আরেকটি প্রস্তাবে বিসিআইসি কর্তৃক কাতার থেকে ৩০ হাজার টন বাল্ক প্রিল্ড ইউরিয়া সার ১৮৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অপর প্রস্তাবে বিসিআইসি কর্তৃক সৌদি আরব থেকে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১৯০ কোটি ২৫ লাখ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জনশুমারি প্রকল্পে ট্যাব ক্রয়ের প্রস্তাব দ্বিতীয় বারের মতো উপস্থাপন করা হলেও গতকাল সেটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।