নগর সংস্কৃতি

‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’

 ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’, ‘মাঝি বাইয়া যাও রে’, ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই’ ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ’সহ অসংখ্য অমর গানের শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ। গতকাল ছিল তার ১২০তম জন্মদিন। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের আয়োজনে কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘লোকসংগীত সম্রাট আব্বাসউদ্দীন আহমদ ও তার শিল্পীজীবন’ শীর্ষক সেমিনার ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ। বাবার স্মৃতিচারণ করেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। সঞ্চালনা করেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান।

আলোচনার শুরুতেই বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আব্বাসউদ্দীন আহমদের মেয়ে শিল্পী ফেরদৌসী রহমান। তিনি বাবা হিসেবে আব্বাসউদ্দীনকে নিয়ে কথা বলেন। স্মৃতিচারণ করেন বাবার সঙ্গের নানান ঘটনার। তিনি বলেন, আমার বাবা বেস্ট বাবা ছিলেন। তাকে মন খুলে যে কোনো কথা বলা যেত। তিনি মনোযোগ দিয়ে সব কথা শুনতেন এবং মতামত দিতেন। ব্যক্তিজীবনে বাবা অনেক ব্যস্ত ছিলেন, কিন্তু তারপরও পরিবারকে অনেক সময় দিতেন তিনি। মায়ের প্রতি ছিল তার প্রচণ্ড ভালোবাসা। 

প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, আব্বাসউদ্দীন আহমদ কিংবদন্তি হয়ে আমাদের মধ্যে আজও আছেন। আধুনিক গান, স্বদেশী গান, ইসলামি গান, পল্লীগীতি, উর্দুগান সবই গেয়েছেন তিনি। তার অসংখ্য গান কালজয়ী হয়ে বেঁচে আছে মানুষের হূদয়ে।

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, লোকসংগীত সম্র্রাট আব্বাসউদ্দীন আহমদ বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি বহুমাত্রিক গান করতেন। তার গানে দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিলক্ষিত হয়। তিনি আমাদের মধ্যে বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন তার সৃষ্টি কালজয়ী গানের মধ্য দিয়ে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাশিয়া সফরের ৯১তম বার্ষিকী উদ্যাপন

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাশিয়া সফরের ৯১তম বার্ষিকী উদ্যাপন করেছে ঢাকাস্থ রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্র।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাশিয়া সফরের ৯১তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার বিকালে ধানমন্ডির নিজস্ব কার্যালয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধ একাডেমির প্রধান উপদেষ্টা ও ট্রাস্টি মো. আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. আবুল আজাদ। এতে উপস্থিত ছিলেন রুশ কেন্দ্রের পরিচালক ম্যাক্সিম দোব্রোখোতভ।

বক্তারা জানান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ?‘রাশিয়ার চিঠি’তে সে সময়ের উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে রাশিয়ার বর্ণনা দিয়েছেন। তার অনেকগুলো সাহিত্যকর্ম রুশ ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ অনুসারে রাশিয়ার একটি ছবির সংগীতও তৈরি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী রীনা আমিন, শিল্পী আরিফ হোসেন এবং শিল্পী ড. শরীফ আশরাফুজ্জামান। নৃত্য পরিবেশন করেন প্রমিতা বর্মণ।