নিম্নমানের উপকরণে সড়ক সংস্কার!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ৩ টি আঞ্চলিক সড়ক সংস্কার কাজে ৬ বছর আগের পুরনো ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ৩টি সড়ক সংস্কার করতে দরপত্রের শিডিউলে ৪ ইঞ্চি নতুন ইটের খোয়ার শর্ত ছিল। কিন্তু ঠিকাদারেরা ওই শর্ত মানেননি। এছাড়া, অন্যান্য সামগ্রীও নিম্নমানের।

বিজয়নগর উপজেলা এলজিইডির কার্যালয়-সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অধীনে ১৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার মির্জাপুর ভায়া হরষপুর-আউলিয়াবাজার-সিঙ্গারবিল আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন কাজ পায় পৃথক তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে মির্জাপুর-হরষপুর সড়ক সংস্কারে পিন্টু কনস্ট্রাকশান, হরষপুর-গোয়ালনগর সড়ক সংস্কারে ইব্রাহিম-মাহাবুব কনস্ট্রাকশান  ও গোয়ালনগর থেকে সিঙ্গারবিল সড়ক সংস্কার কাজ পায় মোস্তফা কামাল এন্টারপ্রাইজ।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত আগস্ট মাস থেকে কাজ শুরুর পর সড়কগুলোতে খোয়া বিছানো শেষ হয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, আগের রাস্তায় থাকা পুরনো ইটের খোয়া ব্যবহারের পর ওপর দিয়ে চার ইঞ্চি পরিমাণ নতুন ইটের খোয়া বিছানোর কথা থাকলও ঠিকাদারেরা তা করেননি।
নিম্নমানের কাজ করায় স্থানীয় লোকজন আপত্তি করলেও ঠিকাদার কিংবা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)-এর লোকজন এসব আমলে নেননি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পুরনো ইটের খোয়া বিছানোর পর রোলার দিয়ে চাপা দেওয়া হয়েছে। এদিকে খাটিঙ্গা বাজার এলাকায় পাথরের ঢালাই ও সেখান থেকে আউলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের পিচ ঢালাই কাজ সম্পন্ন হয়েছে।  

ছবি: ইত্তেফাক

পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক ও আলী হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী রাস্তাটি নতুন করে সংস্কার করার ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু এই সংস্কার কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশা চালক নিত্য দেবনাথ বলেন, ‘রাস্তাটির কাজ শুরুর পর ভেবেছিলাম আমাদের দুর্ভোগ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু যেভাবে কাজ করা হয়েছে, তাতে বেশিদিন টিকবে না। ফলে কিছুদিন পরেই দুর্ভোগ সঙ্গী হবে আমাদের।’

নিম্নমানের কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইব্রাহিম-মাহাবুব কনস্ট্রাকশানের কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা রেজাউল বলেন, ‘আমরা কাজে কোনো ত্রুটি করিনি। স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান আমাদের কাজ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’

বিজয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী আনিছুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘অনেকেই আমাদের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। পুরনো ইট ব্যবহারের কারণে এলাকার মানুষ ভুল বুঝেছে। অনেক অভিযোগকারীকেই আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি।’

ইত্তেফাক/এনই/এএএম