ফুল

দেবকাঞ্চন

কাঞ্চন ফুলের মাঝে দেবকাঞ্চন রং-রূপ আর সুগন্ধ সব মিলিয়ে অতুলনীয়। ফুলের এ ভিন্নতার ফলে একে আলাদাভাবে চেনা যায়। গাছ দেখে আলাদাভাবে চেনা মুশকিল। কারণ কাঞ্চনের সবকটি প্রজাতির গাছ দেখতে প্রায় একই রকম। দেবকাঞ্চনের আদি নিবাস হিমালয়ের পাদদেশ ও আসামের পাহাড়ি অঞ্চল। তবে চীন, শ্রীলঙ্কা ও মালেশিয়ায় দেবকাঞ্চনের দেখা পাওয়া যায় এবং বাংলাদেশে এর বিস্তার বহুকাল আগের।

দেবকাঞ্চন ছোট আকৃতির বৃক্ষ। উচ্চতা গড়ে ৮ থেকে ১০ মিটার হয়ে থাকে। গাছের কাণ্ড খাটো। কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা বেশ শক্ত মানের এবং ছড়ানো। তবে মাঝেমধ্যে বড় আকৃতির গাছও চোখে পড়ে। চিরসবুজ ও পত্রমোচী বৃক্ষ। শীতের শেষে গাছের সমস্ত পাতা ঝরে যায় এবং বসন্তের শেষে গাছে নতুন পাতা গজায়। ফুল ফোটার মৌসুম হেমন্তকাল। এ সময় গাছের সমস্ত শাখা-প্রশাখা ফুলে ফুলে ভরে যায়। হেমন্তের শুরুতে ফুল ফোটা শুরু হয় এবং ব্যাপ্তি শীতের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। ফুল খুবই নজর কাড়া। সাদা বা বেগুনি। ফুলে নমনীয় কোমল পাপড়ি পাঁচটি যা অসমান, লম্বাটে ও মুক্ত। ফুল ৬ থেকে ৮ সেন্টিমিটার চওড়া। রয়েছে মিষ্টি সুগন্ধ। ফুলের মাঝের অংশে কাস্তের মতো বাঁকা পরাগ অবস্থিত। বিস্তৃত শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে এক বা একাধিক ফুল ফুটতে দেখা যায়। 

গাছের পাতা সবুজ, শিরা-উপশিরা স্পষ্ট। পাতার বৈশিষ্ট্য—একই বোঁটার পাতা মাঝে দু’ভাগে বিভক্ত। আবার দুটি পাতা জোড়া দিলে একটি অন্যটির সঙ্গে সমানে সমান। পাতার অগ্রভাগ ভোঁতা। ফুল শেষে গাছে ফল হয়, ফলে বীজ হয়। প্রতি ফলে ১২ থেকে ১৬টি বীজ থাকে। ফল দেখতে শিমের মতো চ্যাপটা, রং প্রথমে সবুজ ও পরিপক্ব হলে কালচে রং ধারণ করে এবং শুকিয়ে গিয়ে এক সময়ে আপনাআপনিই ফেটে গিয়ে বীজগুলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। পরিপক্ব বীজের রং কালচে খয়েরি। গাছ বেশ কষ্টসহিষ্ণু। বীজ থেকে বংশ বিস্তার করা হয়।

দেবকাঞ্চনের রয়েছে ভেষজ নানান গুণ। উঁচু ভূমি, রৌদ্রোজ্জ্তল পরিবেশ থেকে হালকা ছায়াযুক্ত স্থান ও প্রায় সব ধরনের মাটিতে এই ফুলগাছ জন্মে।

লেখা ও ছবি: নূর আলম গন্ধী