বাংলাদেশ হলো ভাটির দেশ। পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্ ব-দ্বীপ অঞ্চল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পানির বিরাট অংশ বাংলাদেশ হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। বন্যার সময় ভয়ংকর পরিস্থিতি হয়। নদী ভাঙন এবং স্থলভাগ জলাবদ্ধ হয়ে জনগণকে নিঃস্ব করে দেয়। এসব দিক থেকে বন্যার পূর্ববর্তী কিছু সর্তকতা ও করণীয় প্রয়োজন। যেটা বন্যার সময় আত্মরক্ষায় সহায়তা করবে। যেমন উঁচু জায়গায় বাড়িঘর তৈরি করা, বেড়িবাঁধের ভেতরে বাড়িঘর নির্মাণ, নতুন করে চর জোগে উঠলে সেখানে বাড়িঘর না করা, বাড়ির চারপাশে কলাগাছ রোপণ, বন্যা এলাকায় ঘরের চারপাশ ইট দিয়ে তৈরি—যদি ইট সম্ভব না হয় ঘন ঘন করে বাঁশ দিয়ে ঘেরা, শক্ত কাঠের খুঁটি দিয়ে ঘর তৈরি করা, টিউবওয়েল উঁচু স্থানে বসানো যেনো বন্যার পানিতে ডুবে না যায়, উঁচু স্থানে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা করা, যে মৌসুমে বন্যা হয় তখন হাঁস/মুরগি/গবাদি পশু কম পালন, বন্যার আগেই গবাদি পশুর ঘাস যৌথভাবে মজুদ করা, স্বল্প সময়ে উত্পাদন করা যায় এমন ফসল লাগানো, কখনো কখনো মৌসুম শেষে শরত্ মাসেও বন্যা হয় তাই নবান্নের আগেই খাদ্য মজুদ করা, বন্যা এলাকায় পুকুরের পাড় উঁচু করে জাল দিয়ে বেড়া দেওয়া, সারা বছর নির্দিষ্ট সময়ের বন্যার জন্য কিছু খাদ্য মজুদ রাখা, পরিবারে বন্যার সময় বেশি করে শুকনো খাবার আর প্রাথমিক ওষুধ মজুদ করা, বন্যার আগে স্থানান্তরযোগ্য চুলা তৈরি করা, বন্যা এলাকায় ছোট ছেলেমেয়েদের সাঁতার শেখানো, উঁচু জায়গায় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন। এসব কাজ আগেই করলে হয়তো অনেকাংশ ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
মাজহারুল ইসলাম শামীম, শিক্ষার্থী, ফেনী সরকারি কলেজ