গত ২০ অক্টোবর উজান থেকে তিস্তা নদী দিয়ে নেমে আসা পানিতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে বন্যা ব্যাপক আকার ধারণ করে। ঐ ইউনিয়নের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়। হঠাত্ করে ধেয়ে আসা প্রবল স্রোতে রোপা আমনখেত, চলাচলের সড়ক ও সেতু ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর, বিদ্যুত্ বিভাগ, প্রকল্প বাস্তবায়ন বিভাগ গত এক সপ্তাহ আগে হঠাত্ হয়ে যাওয়া বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করেছেন। এতে প্রায় ১৭ কোটি টাকার সরকারি-বেসকারি অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। হঠাত্ হয়ে যাওয়া এক দিনের এই বন্যায় দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ১, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০ গ্রামে বন্যা প্রবল আকার ধারণ করে। প্রায় দেড় হাজার একর আমন ধানখেত, চা-বাগান, অন্যান্য ফসলি খেত পানিতে তলিয়ে যায়। দুটি সেতুও ভেঙে গেছে। কয়েক শ বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত এবং কাতিপাড়া থেকে মতিয়ারের বাড়ি কাবিখার সড়ক, গুচ্ছগ্রাম, বঙ্গেরবাড়ি-নতুনহাট, হাঁড়িপাড়া-সৈয়দপাড়া, গুচ্ছগ্রাম বাজার থেকে কাজীপাড়া এলাকায় পাকা ও কাঁচা সড়ক বন্যায় ভেঙে যায়। প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক, মাদ্রসাসহ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়।
পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মাহাবুব-উল আলম জানান, দহগ্রাম ইউনিয়নে হয়ে যাওয়া বন্যায় হাঁড়িপাড়া এলাকার সড়কের ৬০ মিটার চেইনেজ ৫৩ মিটার আরসিসি ফুট সেতুর একটি স্প্যান ভেঙে পড়ে গেছে। একই এলাকা ও সড়কের অপর একটি ২ হাজার ৭১৩ মিটার চেইনেজ, ৬০ মিটার আরসিসি ফুট সেতুরও একটি স্প্যান ভেঙে পড়ে গেছে। অপর তিনটি সেতুর প্রায় ৪ হাজার অ্যাপ্রোচ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল গাফফ্ার জানান, দহগ্রাম ইউনিয়নে বন্যায় রোপা আমন ধানখেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিতে প্রায় দেড় হাজার জমির ধানখেত প্লাবিত হয়। এর মধ্যে ৪৬৫ হেক্টর জমির আমন ধানখেত বন্যায় সৃষ্ট বালু পড়ে নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ৫ কোটি সাড়ে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। বিদ্যুতের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ নেসকো লিমিটেড পাটগ্রাম উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানান, দহগ্রামে ঘটে যাওয়া বন্যায় জলঢাকা থেকে নেওয়া ৩৩ হাজার কেভি লাইনের ৯টি খুঁটি তারসহ পড়ে ক্ষতি হয়। এখন লালমনিরহাট গ্রিড থেকে বিদ্যুতের পাওয়ার নিয়ে চালু করা হচ্ছে। ফোরফোর্টি লাইনের তিনটি খুঁটি পড়ে গেছে। দুটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়েছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখনো ঠিক করা সম্ভব হয়নি।
পাটগ্রাম উপজেলা মত্স্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা দীন মো. আসাদুল্লাহ জানান, দহগ্রামে বন্যায় ৮১টি পুকুরের মাছ বের হয়ে গেছে। এতে অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জেলা মত্স্য কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুর রহমান বলেন, দহগ্রাম ইউনিয়নে হঠাত্ বন্যায় ক্ষতির তথ্য উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর নিরূপণ করেছে। সে অনুযায়ী প্রায় ১৬-১৭ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষতি হয়েছে। যাবতীয় তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।