বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও ভাঙচুর

বিভিন্ন স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়া, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

নেত্রকোনা :সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নে বুধবার রাতে নৌকার প্রতিপক্ষ বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা প্রচারে গেলে নৌকার পক্ষ এবং প্রতিপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া হয়। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটে বলেও  জানা গেছে।  এই ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন পান বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক। এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ ও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে নামেন। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একটু উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

নগরকান্দা (ফরিদপুর) :বুধবার সন্ধ্যায় তালমা ইউনিয়নের নতুন বাজারে অবস্থিত আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল হোসেন মিয়ার নির্বাচনি অফিসে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা অফিসে থাকা কয়েক জন সমর্থককে মারপিট করে আহত করে।  ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ওসি সেলিম রেজা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল মিয়ার নির্বাচনি কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে ও কয়েক জনকে মারপিট করেছে।

শেরপুর (বগুড়া) : শেরপুরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রচারণা সভায় হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বুধবার দিনগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের খানপুর পূর্বপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী ভুক্তভোগী আনারুল ইসলাম বাদী হয়ে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, অভিযোগটি তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) :মোরেলগঞ্জের খাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আব্দুল হাই খান ও চালিতাবুনিয়ায় মিলন হাওলাদারের প্রচার মাইক, ব্যাটারি ও মাইকের ম্যাকানিক্যাল সেট ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার বিকালে খাউলিয়া বাজার এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীর ও চালিতাবুনিয়ায় মিলন হাওলাদারের প্রচার মাইক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। থানা অফিসার ইনচার্জ  মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, মাইক ভাঙচুরের ঘটনা শুনেছি। পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

ভোলা (দক্ষিণ) :দৌলতখান উপজেলায় দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এসময় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কয়েকটি মটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের  হাজি বাড়ির দরজায় এ ঘটনা ঘটে। দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলার রহমান জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে ঝিনাডইদহের মহেশপুরের নাটিমা গ্রামে বুধবার সন্ধ্যা রাতে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাগিবতণ্ডায় সংঘর্ষে তিন জন আহত হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর ও চাতালে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এক জনকে আটক করা হয়েছে।