উড়তে থাকা পাকিস্তানের সামনে ভয়ডরহীন আফগানিস্তান

সুপার-১২-এর ‘এ’ গ্রুপের সবচেয়ে বড় দুই বাধা ছিল ভারত ও নিউজিল্যান্ড। অথচ টি-২০ বিশ্বকাপে তাদের পাত্তাই দেয়নি পাকিস্তান। প্রথমে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১০ উইকেটে হারের লজ্জায় ফেলে, ‘নতুন’ শত্রু নিউজিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ৫ উইকেটের ব্যবধানে। তাতে ধরাই হচ্ছে, উড়তে থাকা পাকিস্তানের সেমিফাইনালে ওঠা নিয়ে শঙ্কার কারণ নেই। কেননা, গ্রুপের পরের ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, নামিবিয়া ও স্কটল্যান্ড। তুলনা করলে তাদের বিরুদ্ধে যোজন যোজন এগিয়ে বাবর আজমের দল। এর মধ্যে অবশ্য ভয়ডরহীন আফগানদের আজ হালকাভাবে নিতে চাইবে না তারা।

দুই দলের টি-২০তে সাক্ষাত্টা হয়েছিল একবারই। শারজাহে সেই ম্যাচে ৬ উইকেটে জিতেছিল পাকিস্তান। এই ভেন্যুতেই স্কটল্যান্ডকে ১৩০ রানের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত শুরু করে আফগানিস্তান।

আজ ভেন্যু দুবাই হলেও সতর্ক থেকেই মাঠে নামছে পাকিস্তান। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে দলটির কোচ সাকলাইন মুশতাক বলেন, ‘দেখুন, আমি আগেও বলেছি তারা শক্তিশালী দল। আমরা বলতে পারি না তাদের হারানোটা খুব সহজ হবে। ব্যাপারটা এমন নয়। তাদের অসাধারণ বোলিং অ্যাটাক আছে, বিশেষ করে স্পিনাররা। এবং যখন ব্যাটিং করতে যায়, তারা হূদয় ও মন দিয়ে খেলে। তাদের খেলার ধরনটা ভয়ডরহীন এবং আমি মনে করি এ ধরনের দল বিপজ্জনক হতে পারে।’

গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল আফগানরা। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে হারতে হয় তাদের। তাই আফগান ভক্তদের মধ্যে দুই দলের লড়াই নিয়ে একটা আলাদা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে  রশিদ খানের আকুতি, এটাকে যেন শুধুই ম্যাচ হিসেবে দেখা হয়। আফগান এই স্পিনার বলেন, ‘অবশ্যই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সব সময়ই ভালো ম্যাচ হয়ে থাকে। এমনকি যখন আমরা ২০১৮ এশিয়া কাপ ও ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলেছি তখনো। তবে এই ম্যাচটা ম্যাচ হিসেবেই থাকা উচিত। আমি অনুরোধ করব সব ভক্তকে, তারা যেন শান্তশিষ্ট হয়ে ম্যাচটি উপভোগ করে। দল হিসেবে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে এসেছি এবং তাদের এমন পারফরম্যান্স ও জয় উপহার দেব, যাতে করে তারা সেখানে উদ্যাপন করতে পারে।’ স্কটল্যান্ডের মতো পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপও স্পিনের ভেলকিতে নাস্তানাবুদ করতে চাইবে রশিদ-মুজিবরা। যেহেতু একটা ম্যাচ গেছে আর সেটাও জয় দিয়ে, তাই দুর্বলতার কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে অকারণে বল হাওয়ায় ওঠানোর একটা প্রবণতা আছে তাদের। অন্যদিকে পাকিস্তান এ পর্যন্ত প্রতিটি বিভাগেই সফল। প্রথম ম্যাচে উদ্বোধনী জুটির পর দ্বিতীয় ম্যাচে কঠিন পরীক্ষায় উতরে গেছে তাদের মিডল অর্ডার। আর বোলিং তো বরাবরই আপ টু দ্য মার্ক। তবে হাসান আলীকে ঘিরে কিছুটা দুশ্চিন্তার মেঘ জন্ম নিয়েছে। গত দুই ম্যাচেই খরুচে ছিলেন এই পেসার। দেখা যাক আজ দিনটা নিজের করে নিতে পারেন কি না।

হেড টু হেড

ম্যাচ -১

পাকিস্তান-১

আফগানিস্তান-০