বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতিকে ‘ধর্মহীনতা’ বলে উল্লেখ, চুলের সুন্নতি কাট এবং টাকনুর ওপরে পাজামা বা প্যান্ট পরার নির্দেশ—এগুলো আসলে টেস্ট কেস। এর মধ্য দিয়ে হেফাজতসহ ধর্মবাদীদের ‘তালেবানি’ শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আর এ সবই করা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারকদের ছদ্মাবরণে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তোপখানা রোডে ‘বাংলাদেশ যুব মৈত্রী’ আয়োজিত ২০০৬ সালে ১৪ দলের আন্দোলনে গুলিতে নিহত রাসেল খান স্মরণে আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।
মেনন বলেন, ‘এ অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশ কখন একটি ধর্মবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হবে তা আমরা টেরও পাব না। সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী অপশক্তি সেই অপেক্ষাতেই আছে।’ এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তিনি যুবশক্তিকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দেশকে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে ১৪ দল গঠিত হয়েছিল। ১৪ দলের সেই সংগ্রামে বায়তুল মোকাররমে জড়ো হওয়া জামায়াতের ছোড়া গুলিতে শহিদ হয়েছিল রাসেল খান। কিন্তু আজ শহিদ রাসেলকে যেমন বিস্মৃতিতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, তেমনি ১৪ দলের অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক লড়াইও বিস্মৃতিপ্রায়। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ঢাকার সাবেক মেয়র ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতিকে ‘ধর্মহীনতা’ বলে উল্লেখ করার দুঃসাহস দেখান। চরফ্যাশনের আওয়ামী লীগ দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান আফগান তালেবানদের অনুসারে নিজ এলাকায় সেলুনগুলোকে ‘সুন্নতি কাট’ ছাড়া চুল কাটলে জরিমানা করা হবে বলে নির্দেশ দেন। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও টাকনুর ওপর পাজামা বা প্যান্ট পরার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখার অভিযোগে ধৃত ব্যক্তিকে ‘পাগল’ সাব্যস্ত করতে ব্যস্ত কর্তৃপক্ষ। এগুলো আসলে টেস্ট কেস।
যুব মৈত্রীর সভাপতি সাব্বাহ আলী খান কলিন্সের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য নুর আহমদ বকুল। সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ সানী।