রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ

নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলি ও টেঁটাবিদ্ধ হয়ে দুই জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে চরাঞ্চলের পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কাচারিকান্দি গ্রামের মৃত মলফত মিয়ার ছেলে সাদির মিয়া (২২) ও আসাদ মিয়ার ছেলে হিরন মিয়া (৩৫)। আহতদের রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কাচারিকান্দি গ্রামের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মৃত ফজলু মিয়ার ছেলে শাহ আলম ওরফে ছোট শাহ আলমের সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদিরের ছেলে বর্তমান ইউপি সদস্য শাহ আলম ওরফে বড় শাহ আলমের বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে গত ঈদুল ফিতরের পরদিন উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ  বাধে। এতে ছোট শাহ আলমের সমর্থক শহীদ মিয়া ও ইয়াসিন মিয়া নামে দুই জন টেঁটাবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। ঐ ঘটনার পর বড় শাহ আলমের লোকজন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

আসন্ন ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়ানো লোকজন আবার এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা শুরু করেন। এরই জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে বড় শাহ আলমের লোকজন দেশি-বিদেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছোট শাহ আলমের লোকজনের ওপর হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীদের গুলি ও টেঁটায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হন। এর মধ্যে ঘটনাস্থলেই ছোট শাহ আলমের সমর্থক হিরন মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং সাদির মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মোখলেছসহ বেশ কয়েকজনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত রাকিব মিয়া বলেন, ‘ভোরে বড় শাহ আলমের লোকজন অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের হাতে থাকা টেঁটা, বল্লম, বন্দুকসহ দেশি-বিদেশি অস্ত্র দিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ চালায়।’

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠান বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনায় দুই জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সহিংসতা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।