টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে এক প্রসূতির নবজাতক (পুত্র সন্তান) পরিবর্তন করে (কন্যা সন্তান) প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গৃহবধূ ও তার স্বামীর অভিযোগ, তার পুত্র সন্তান জন্ম হলেও তাকে দেওয়া হয়েছে কন্যা সন্তান। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে এ ঘটনা ঘটেছে। পুত্র সন্তানের দাবী জানিয়ে শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তারের (১৮) পরিবার।
সুমাইয়ার স্বামী আরশাদুল বলেন, গত ২৬ অক্টোবর তার স্ত্রীকে কুমুদিনী হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর কুমুদিনী হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাম করা হলে চিকিৎসক ডা. বপন কুমার তাদের জানায় পুত্র সন্তান হবে। কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তির পূর্বে মির্জাপুর হালিম আধুনিক হাসপাতাল (প্রাইভেট) চিকিৎসক ডা. তুলি পাল ও বাঁশতৈল ক্লিনিকের ডা. তারেক মাহমুদও আলট্রাসনোগ্রাম করে রিপোর্ট প্রদান করেন সুমাইয়ার পুত্র সন্তান হবে। গত বুধবার (২৭ অক্টোবর) কুমুদিনী হাসপাতালে সুমাইয়ার সিজারের মাধ্যমে পুত্র সন্তান হয় বলে হাসপাতাল থেকে তাদের জানানো হয়। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এনআইসি থেকে সুমাইয়ার পরিবারের কাছে পুত্র সন্তানের পরিবর্তে কন্যা সন্তান তুলে দেওয়া হয়। এ নিয়ে কুমুদিনী হাসপাতালে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় দেন দরবার হলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করেন তারা।
এ ব্যাপারে কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম (অপারেশন) অনিমেশ ভৌমিক লিটন বলেন, হাসপাতালের সকল কাগজপত্রে সুমাইয়ার কন্যা সন্তান হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। সুমাইয়ার পরিবার ভুল সংবাদ শুনছেন যে তাদের পুত্র সন্তান হয়েছে। আসলে তাদের কন্যা সন্তানই হয়েছে। যেহেতু অভিযোগ পাওয়া গেছে, এ বিষয়ে সুমাইয়ার পরিবার ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে সুমাইয়ার মামা আজিজুর রহমান ও বোন শারমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের পুত্র সন্তান হয়েছে এটা নিশ্চিত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের পুত্র সন্তান পরিবর্তন করে কন্যা সন্তান দিয়েছেন। আমরা পুত্র সন্তানের দাবী জানিয়ে এবং কুমুদিনী হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। প্রয়োজনে আদালতের আশ্রয় নিয়ে ডিএন টেস্ট করাবেন বলেও জানান তারা।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে এবং কুমুদিনী হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/ইআ