ঘর হোক শিশুবান্ধব

l নাজমা সুলতানা মেন্ডিজ

 

শিশুদের মধ্যে প্রচুর সুন্দর গুণ রয়েছে। তাদের কল্পনা, সৃজনশীলতা, অভিব্যক্তি সবকিছুকে মাথায় রেখে ঘর সাজানো উচিত। সেইসঙ্গে তাদের পড়াশোনার জায়গা এবং ভবিষ্যেকও গুরুত্ব দিতে হবে। সঠিক পরিকল্পনায় ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য এবং মেধা বিকাশে বেশ সহায়তা করে। আমি যখন একটি ফ্ল্যাট ডিজাইন করি তখন শিশুদের স্পেসকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি।

যখন একটি পরিবারের শিশুরা বড় হতে থাকে তখন তারা অধীর আগ্রহে থাকে একটু সুন্দর ডিজাইন করা নিজের রুমের জন্য। আমি মনে করি, শিশুর ঘরটি অবশ্যই সঠিক পরিকল্পনায় ডিজাইন করা উচিত যা তাদের মানষিক বিকাশে সাহায্য করবে। শিশুদের ঘর ডিজাইন করতে প্রথমেই যেটি করা উচিত, তাকে জিজ্ঞাসা করা—সে কী চায়। তাদের পছন্দ এবং সুবিধাকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবারে এক বা একাধিক শিশু থাকতে পারে এবং সেটি মেয়ে বা ছেলে হতে পারে। ফ্ল্যাটের আয়তনের ওপর নির্ভর করে প্রত্যেকটি শিশুর জন্যে আলাদা ঘর দেওয়া সম্ভব কি না। ছেলে শিশু এবং মেয়ে শিশুর গৃহ সজ্জার নকশা প্রক্রিয়া ভিন্ন ধারণা ও পটভূমিতে তৈরি হয়। কখনো কখনো দুই ভাই বা দুই বোন একটি ঘর শেয়ার করতে পারে যাকে টুইন বেডরুম বলা হয়। এভাবে থেকে যে শিশু বড় হয় তারা শেয়ারিং এবং জীবনের মানবিক বিষয়গুলো  শিখতে পারে।

শিশুটি যত বড় হবে, তাদের পড়াশোনার জন্য তত বেশি বই এবং অন্যান্য জিনিস স্টোরেজের প্রয়োজন হবে। তাই বিছানার পাশে বা অন্যান্য ফাঁকা জায়গাগুলোতে হুক, ওয়াল হ্যাঙ্গিং বুক কেবিনেট, সেল্ফ তৈরি করে তাদের খেলনা বা বই এবং প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো রেখে স্টোরেজ স্পেস দ্বিগুণ করা যায়। শিশুদের ঘরে আলমারি এবং পর্যাপ্ত রুম কেবিনেটের ব্যবস্থা থাকা উচিত এবং সেগুলো আকর্ষণীয় রঙ এবং থিমের হলে তারা তাদের নিজেদের কাপড় জামা, জিনিসপত্র নিজেরাই আনন্দের সঙ্গে গুছিয়ে রাখতে চাইবে। এটা তাদের জীবনে অর্গানাইজড হতে সাহায্য করবে।

শিশুদের ঘরের সাজ সহজ এবং গৃহসজ্জার জিনিসগুলোকে ন্যূনতম স্পেসে রাখার মাধ্যমে খেলার জন্য জায়গা তৈরি রাখা জরুরি এবং একটি সাধারণ পটভূমি তৈরি করা যা আপনার সন্তানের বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সহজেই আপডেট করা যেতে পারে।

মেঝেতে জায়গা বেশি রাখতে বাঙ্ক বেড খুবই উপযোগী এবং এটি শিশুদের কাছেও প্রিয়। বাঙ্ক বেডে একসঙ্গে দুই বা তিনজন ঘুমাতে পারে। বাঙ্ক বেডে ওঠা-নামা  এক ধরনের ফিজিক্যাল এক্টিভিটিজও। যদিও বাঙ্ক বেড তৈরি করতে এর প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো অবশ্যই পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। 

আমি শিশুদের ঘরের রং নির্বাচনে চিল্ড্রেন কালার সাইকোলজি অনুসরণ করে থাকি।  ঘরের অন্যান্য উপাদানগুলোর রংকেও একটি থিম মেনে সাজাতে হয়। শিশুর ঘরের পর্দা  এবং বিছানাকেও আরামদায়ক রং এবং মেটেরিয়ালে নির্বাচন করা হয়।

শিশুর ঘরের সিলিং ডিজাইন তাদের পছন্দমতো করা যেতে পারে। সেখানে কখনো কিছু  আলোর খেলা বা তারার নিওন আলো থাকতে পারে। রাতে যখন তারা ঘুমাবে সেটি তাদের জন্য খুবই অন্যরকম একটি অনুভূতি হবে।

আমি মনে করি, একটি সঠিক এবং সুন্দর ডিজাইন বিস্ময়করভাবে মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। একটি যত্নশীল নকশা শিশুর ঘরকে অভয়ারণ্যে  পরিণত করতে পারে; যা শিশুর জন্য সত্যি একটি অন্যরকম অভিজ্ঞতা। যেখানে সে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, শান্ত, শব্দমুক্ত, স্বাস্থ্যকর গোছানো সুন্দর পরিবেশ পেতে পারে। সবশেষে বলি, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং মেধার উন্নয়নে সঠিক সুন্দর দৃষ্টিনন্দন গৃহ সজ্জায় গুরুত্ব দেওয়া খুবই জরুরি।

 

লেখক ইন্টেরিয়র ডিজাইনার