রংপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভবনের সামনে দলের জেলা সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের গাড়ি দিয়ে সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজুসহ জেলার শীর্ষ নেতাদের চাপা দিয়ে আহত করার চেষ্টার অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সাধারণ সম্পাদক সমর্থকরা। জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জিন্নাত হোসেন লাভলু গতকাল মমতাজ উদ্দিনকে দায়ী করে থানায় এই জিডি করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মমতাজ উদ্দিন বলেছেন, সাধারণ সম্পাদকের লোকজন তার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলার চেষ্টা করেছিল। তারা আমার গাড়ির উপর উঠে এবং ঘেরাও করে আমার ড্রাইভারকে নামিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
অপরপক্ষের বক্তব্য জানতে রেজাউলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যুগ্ম-সম্পাদক মোতাহার হোসেন মওলার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। মোতাহার সাংবাদিকদের বলেন, কার্যালয়ে সাংগঠনিক আলোচনা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাড়াহুড়ো করে মমতাজ উদ্দিন দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে তাকে বহনকারী পাজেরো গাড়িতে গিয়ে ওঠেন। এ সময় রেজাউল করিম রাজুসহ আমি এবং সিনিয়র নেতারা দলীয় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির কাছে দাঁড়াই। ঐ গাড়িটি কোনো কারণ ছাড়াই ব্যাক গিয়ার দিয়ে পেছনে আসে। এতে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক নেতাকর্মী আঘাত পান। কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় দফায় গাড়িটি ব্যাক গিয়ার দিয়ে এসে সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে থাকা রেজাউল, আমি এবং আরো চার-পাঁচ জন নেতাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। আমি নিজেও ডান হাতের কবজি ও বুকে ব্যথা পেয়েছি। পুরো ঘটনাটিকে আমরা পরিকল্পিত মনে করছি। এ ঘটনার পর সভাপতি গাড়ি থেকেও নামেননি, দুঃখ প্রকাশ করেননি। বরং দ্রুত গাড়ি নিয়ে চলে যান।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যার পর নগরীর বেতপট্টিস্থ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলের ও অঙ্গ সংগঠনের দুই শতাধিক নেতাকর্মী সমবেত হয়। মমতাজ উদ্দিন ও রেজাউল করিম রাজুও প্রায় দিন পার্টি অফিসে আসেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশিদ মোবাইল ফোনে বলেন, থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এটা দলীয় ঘটনা। পুরো বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।