বরিশালের হিজলা উপজেলায় শহিদদের তালিকায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ওঠায় এলাকা জুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান চিরস্মরণীয় করে রাখতে হিজলার গুয়বাড়িয়া ইউনিয়নের পত্তনী ভাঙ্গা জোনা মার্কেট এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামাঙ্কিত স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সেখানে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদদের নামের তালিকায় জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামও স্থান পেয়েছে। এতে এলাকা জুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হিজলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মহিউদ্দিন বলেন, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুস সাত্তার দুই সপ্তাহ আগে বিষয়টি আমাকে জানায়। পরদিন সকালে সেখানে গিয়ে দেখি শহিদদের নামের তালিকার স্মৃতি ফলকে ঐ ইউনিয়নের ৪০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম স্থান পেয়েছে। তবে এর মধ্যে অন্তত ১৬ জন জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে। এ নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মো. মহিউদ্দিন বলেন, সেদিন স্মৃতিফলক নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে অনেক খোঁজাখুঁজি করি। শেষ পর্যন্ত সেখানে তাদের কেয়ারটেকারকে পেয়ে বিষয়টি জানাই। পরে ইউএনওকে মুঠোফোনে কল দিলে ফোন রিসিভ করেন উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা। তাকে বিষয়টি অবহিত করি। এর পর নির্মাণকাজের তদারকিতে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী সুখদেব বিশ্বাসকে বিষয়টি জানাই। কিন্তু তারপরও সেটি সংশোধন করা হয়নি।
চরপত্তনী ভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দলিল উদ্দিন জানান, স্মৃতিফলকে শহীদদের তালিকার ১১ নম্বরে রয়েছে তার নাম। দূরদূরান্তে থাকা তার স্বজনদের কানেও বিষয়টি পৌঁছে গেছে। অনেকে না জেনে কান্নাকাটি করছেন। ফোন দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত হতে হচ্ছে । যারা এ কাজ করেছেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিচারের আওতায় আনা দরকার।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দলিল উদ্দিন আরো বলেন, তাছাড়া স্মৃতিফলকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের বানান ভুলসহ অসংখ্য ভুল রয়েছে। গ্রামের নামের বানানেও অসংখ্য ভুল রয়েছে। যা সত্যিই আমাদের ব্যথিত করেছে।
উপজেলা প্রকৌশলী সুখদেব বিশ্বাস জানান, একটি প্রশিক্ষণে থাকায় উপজেলার বাইরে অবস্থান করছি। দুই সপ্তাহ আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মহিউদ্দিন বিষয়টি মুঠোফোনে আমাকে জানান। আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে স্মৃতিফলক অপসারণ করতে বলেছিলাম। কিন্তু কেন তা করা হল না, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পদাধিকার বলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রশাসক বকুল চন্দ্র কবিরাজ জানান, স্মৃতিফলকের বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ তাকে অবহিতও করেননি। মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের অপরিসীম মহিমাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এই স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়েছে। স্মৃতিফলকে নামাঙ্কিত করার সময়, যারাই কাজটি করেছেন, তাদের আরো সতর্ক থাকা উচিত ছিল। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি ।