আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে নীতি সংস্কার করতে হবে

 ‘এশিয়া-প্যাসিফিক এবং বাংলাদেশ :অর্থনৈতিক সম্ভাবনা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ভৌগোলিক দিক থেকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এখানকার বাণিজ্য সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক নীতিমালার সংস্কার করতে হবে। পণ্য বহুমুখীকরণ, কর ও শুল্ক কাঠামোর আধুনিকায়ন ছাড়াও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি করার তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। ‘এশিয়া-প্যাসিফিক এবং বাংলাদেশ :অর্থনৈতিক সম্ভাবনা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এই তাগিদ দেওয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২১’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলনের চতুর্থ দিনে গতকাল এই ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া প্রধান অতিথি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। এছাড়াও এতে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নায়োকি সম্মানিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

ওয়েবিনারের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, অ-শুল্ক প্রতিবন্ধকতা, টেকনিক্যাল ও টেস্টিং সুবিধার অপর্যাপ্ততা এবং পিটিএ ও এফটিএর অনুপস্থিতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে হলে এফটিএ এবং পিটিএ স্বাক্ষরের সরকারের আরো উদ্যোগী হতে হবে। আব্দুল মাতলুব আহমেদ বলেন, ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাণিজ্যের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা কাজে লাগাতে পার্টনারশিপ ও গ্লোবাল ভ্যালু চেইনে উন্নয়ন দরকার, যার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা বিনিময় হবে ও পণ্য উত্পাদনে আমাদের সক্ষমতা বাড়বে।’ মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, ‘এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রবেশদ্বার বাংলাদেশ এবং এই সুযোগকে কাজে লাগাতে আমাদের এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সরকার দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে বেশকিছু প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করেছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে শিল্প-কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব হবে।’

ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে একটি দেশের সঙ্গে পিটিএ স্বাক্ষর করেছে এবং ১০টি দেশের সঙ্গে পিটিএ এবং এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেন, অতি দ্রুতই দুইটি দেশের সঙ্গে পিটিএ স্বাক্ষর হবে। ইতো নায়োকি বলেন, কোভিড মহামারি সত্ত্বেও গত অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, পণ্য আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ার সহজীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর জোরারোপ করা আবশ্যক। ওয়েবিনারে আলোচনায় আরো অংশ নেন পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ, এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ইউএনএসক্যাপ-এর ডেপুটি হেড ও সিনিয়র ইকোনমিক অফিসার ড. রজন সুরেশ রত্না প্রমুখ।